বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল

বিপিএল শুরু হবে ডিসেম্বরের শেষ দিকে। আজ দ্বাদশ আসরের নিলাম হয়েছে ঢাকার একটি হোটেলে। নিলামে এক ভিডিও বার্তায় যে বক্তব্য দিলেন অ্যালেক্স মার্শাল, তাতে এবার দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপে কোনো ছাড় না দেওয়ার হুঁশিয়ারি মিশে থাকলো কঠোরভাবে।

অ্যালেক্স মার্শাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রধান। প্রথমে দুর্নীতি দমন পরামর্শক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি এই ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

ভিডিও বার্তায় মার্শাল বলেন, “বিপিএল সামনে রেখে আমি গভর্নিং কাউন্সিলকে কিছু ব্যক্তির বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি, যাদের এই বছরের আসরে আমন্ত্রণ না জানানোটাই সমীচীন হবে। এটা অনেকগুলো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের মধ্যে মাত্র একটি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আমরা যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোর ঘটনা আবার বিশ্লেষণ করছি, তখন কিছু মানুষকে দূরে রাখাই বেশি নিরাপদ বলে আমি মনে করেছি।”

“আমাদের দায়িত্ব হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সুরক্ষা দেওয়া, বিশেষ করে এই মুহূর্তে দ্বাদশ বিপিএলের জন্য কাজ করা। আপনি মাঠে গিয়ে আইপিএলের খেলা দেখুন বা টেলিভিশনে বিপিএল দেখুন—সব জায়গাতেই চাইবেন উচ্চমানের খেলা এবং সম্পূর্ণ সৎ ও স্বচ্ছ একটি প্রতিযোগিতা। আমিও ঠিক সেটাই চাই। ক্রিকেটে যারা কাজ করেন—খেলোয়াড়, কোচ, দল-মালিক, দল-ব্যবস্থাপনা, বোর্ড সদস্য কিংবা ইনটিগ্রিটি ইউনিট; আমরা সবাই দুর্নীতি-দমনবিরোধী নীতির আওতাভুক্ত।”

কোনো আশা রইলো না বিজয়-সৈকতের!

ক্রিকেটের দুর্নীতি-দমনবিরোধী যে কোড বা নীতি আছে, এই নীতি এবার কঠোরভাগে প্রয়োগ করার কথা বলেছেন মার্শাল।

“এই কোডে সুস্পষ্ট কিছু নিয়ম আছে। এতে বলা আছে, কোড লঙ্ঘন বলতে কী বোঝায় এবং যারা অন্যায় পথ বেছে নেবে, তাদের জন্য কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা পরিণতি থাকবে। এই কোড অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। কোড বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

বিসিবির দুর্নীতি-দমন ইউনিটের কাজ সম্পর্কেও কথা বলেছেন ইউনিট প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল।

তিনি বলেন, “বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ সম্পর্কে পুরোপুরি পেশাদারির সঙ্গে, নিবিড়ভাবে এবং সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে তদন্ত পরিচালনা করা হবে। আমি ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত সবাইকে এই কোডটি পড়ার পরামর্শ দেব। আপনি যদি অনেক আগে এটি পড়ে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে আবারও পড়ুন। আপনাকে এটি পুরোপুরি বুঝতে হবে।”

বিপিএলে অতীতে নানা ঘটনার ফিসফাস শোনা গেছে। সেসবেও নজর দিতে চান মার্শাল।

“ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে কোনো তথ্য পেলে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো তার জন্য বাধ্যতামূলক। অতীতের কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কেও যদি আপনার কাছে তথ্য থাকে, যত দ্রুত সম্ভব তা আমাদের জানান। আমরা বুঝি, অতীতে হয়তো কিছু তরুণ খেলোয়াড় চাপ অনুভব করেছিলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন, কিংবা নিরুপায় বোধ করেছেন। এখন এগিয়ে আসুন এবং আমাদের জানান। আপনার দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ সহমর্মিতা, সংবেদনশীলতা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে গ্রহণ করা হবে।”

“খেলাটিকে রক্ষার জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মনে রাখবেন, কিছু মানুষ এই আসরকে (বিপিএল) টার্গেট করার চেষ্টা করবে।”