বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে হবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। এই টুর্নামেন্টের সূচি কয়েকদিন আগে প্রকাশ করেছে আইসিসি।

এবারই প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে ২০টি দল। চারটি গ্রুপে রাখা হয়েছে তাদেরকে।

বাংলাদেশ আছে ‘সি’ গ্রুপে, যেটি বেশ কঠিন গ্রুপ। কারণ, এ গ্রুপেই আছে সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ‘দুর্বল’ প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে নেপাল ও ইতালি।

গ্রুপের সেরা দুই দল যাবে সুপার এইটে। ফলে বাংলাদেশকে নেপাল ও ইতালিকে তো হারাতেই হবে, সঙ্গে ইংল্যান্ড বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে কোনো এক দলকেও হারাতে হবে। অথবা, এ দুই দলের কেউ যাতে নেপাল বা ইতালির বিপক্ষে হারে, সেই অপেক্ষায় থাকতে হবে। সুপার এইটের হিসাবটা এখনই আন্দাজ করে নেওয়া একটু কঠিনই।

সে যাই হোক। বিশ্বকাপ আসছে, স্বাভাবিকভাবে দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ আছে যে কারা কারা থাকছেন স্কোয়াডে। তবে টাইগার অধিনায়ক লিটন দাস যে ইঙ্গিত দিলেন, তাতে ধরে নেওয়া যায় বিশ্বকাপের দল প্রস্তুত!

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই সিরিজ শেষে আগামী বিশ্বকাপের দল নিয়ে ইঙ্গিত দেন লিটন দাস।

তার মন্তব্য, “(বিশ্বকাপের) দল অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত, যখন এশিয়া কাপ খেলেছি, তখন থেকেই। আপনি যদি প্যাটার্নটা দেখেন, এই কয়েকটা ক্রিকেটারই খেলছে। তার মানে, বোঝা যাচ্ছে, দলটা আগে থেকেই প্রস্তুত।”

লিটনের কথা ধরে যদি সামনে তাকানো যায়, তাহলে বিশ্বকাপের দলটা কেমন হবে?

টপ অর্ডারে তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন এবং সাইফ হাসান। মিডলে দেখা যাবে লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়কে। সঙ্গে থাকতে পারেন জাকের আলী অনিক, নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন পাটওয়ারি ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের মধ্যে অন্তত দুজন।

অঙ্কনকে ভবিষ্যতের বিবেচনায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে দলে রাখা হয়। ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে দেখা যেতে পারে।

স্পিন আক্রমণে বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই ভরসা করবে নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসনে ও শেখ মেহেদী হাসানের উপর।

পেস বোলিং ইউনিটও মোটামুটি দৃশ্যমান। মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিব। শরিফুল ইসলাম, নাহিদ হাসান রানা যদি বিপিএলে দুর্দান্ত কিছু করেন, তবে তাদের কেউও হয়তো ঢুকে যেতে পারেন বিশ্বকাপগামী দলে।

এর বাইরে অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকেও বিবেচনার বাইরে রাখা যাচ্ছে না!

টি-টোয়েন্টি অধিনায়খ লিটন দাস যে ‘প্যাটার্নের’ কথা বলেছেন, তাতেই কিন্তু এ বছর সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে ৩০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ১৫টিতে জয়, ১৪টি হার, একটি পরিত্যক্ত। আর কোনো বছরে এতো বেশি সংখ্যক ম্যাচে জয় পায়নি টাইগাররা।

এর বাইরে এ বছরে বাংলাদেশ নিজেদের সর্বোচ্চ ছক্কাও (২০৬) মেরেছে। প্রথমবারের মতো ছক্কার সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২০০টি।

ঘুরেফিরে এসব ক্রিকেটারদের নিয়েই এই সাফল্য কিন্তু এসেছে। লিটন নিশ্চয়ই এই ‘উইনিং স্কোয়াড’ ভেঙে বাড়তি কিছু চাইতে যাবেন না।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
লিটন দাস (অধিনায়ক), সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, নুরুল হাসান সোহান/মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, শামীম হোসেন পাটওয়ারি, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম/সাইফ উদ্দিন, তাসকিন আহমেদ।