সান্তোসের জার্সিতে নেইমরের গোল উদযাপনের মুহূর্ত।নেইমার কি পারবেন বিশ্বকাপ খেলতে? ছবি: গেটি

কোনো কিছুরই পরোয়া করেননি তিনি। বাঁ হাঁটুতে বড় চোট। প্রয়োজন অস্ত্রোপচার। চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্রাম নিতে হবে। কিন্তু নেইমার হয়ে ওঠলেন বেপরোয়া। মাঠে নামতে হবে, নিজেকে প্রমাণ করতে হবে, সান্তোসকে রিলেগেশন থেকে বের করতে হবে এবং কার্লো আনচেলত্তিকেও দেখিয়ে দিতে হবে!

এই বেপরোয়া নেইমার যে কতো ভয়ংকর হয়ে ওঠতে পারেন, সেটাই ঠের পেল জুভেন্তুদ। ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে তাদের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেছেন সাবেক বার্সা তারকা।

নেইমারের হ্যাটট্রিক ৩-০ গোলে সান্তোস উড়িয়ে দিয়েছেন জুভেন্তুদকে। আর নেইমার হ্যাটট্রিক পেলেন ৩ বছর ৭ মাস ২৫ দিন পর। সর্বশেষ ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল পিএসজির হয়ে ক্লেঁয়ারমন্তের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এই ব্রাজিল তারকা।

জুভেন্তুদের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ১৭ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেন নেইমার। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ওঠে সান্তোস। এই আক্রমণের সফল সমাপ্তি দেন নেইমার।

এরপর ৬৫ মিনিটে ইগর জেসুসের ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন সাবেক পিএসজি তারকা। আর তৃতীয় গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। ৭৩ মিনিটে ডি বক্সে জুভেন্তুদ ফাউল করে। স্পটকিক থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন নেইমার।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বরও চোট নিয়েই মাঠে নামেন নেইমার। সে ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোল অ্যাসিস্ট করেন তিনি। সে ম্যাচেও ৩-০ গোলে জয় পায় সান্তোস।

টানা দুই ম্যাচের জয়ে রেলিগেশন অঞ্চলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে সান্তোসের। ৩৭ শ্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন টেবিলের ১৪তম স্থানে। পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকের চারটি দল দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যাবে।

আগামী রোববার লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে সান্তোস। প্রতিপক্ষ ক্রজেইরা। ম্যাচটি জিতলে প্রথম বিভাগে টিকে থাকার হিসাব একেবারে সহজ হয়ে যাবে সান্তোসের জন্য।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, নেইমার এ ম্যাচেও ব্যথা নিয়েই খেলেছেন। বাঁ হাঁটুর মেনিসকাসে চোট পাওয়া এই প্লে-মেকার হাঁটুতে প্রতিরক্ষামূলক বন্ধনী পরে মাঠে নেমেছিলেন।

এই চোটের কারণে এ বছর আর মাঠে নামারই কথা ছিল না নেইমারের। অথচ বেপরোয়া হযে নেইমার খেলছেন, গোলও করছেন। এমন বেপরোয়া নেইমারকেই তো চায় ব্রাজিল!

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়ে রেখেছেন, তিনি ফিট নেইমারকে দলে চান। আর নেইমার দেখাচ্ছেন, তিনি ফিট নাকি আনফিট সেটা ব্যাপারই না। মাঠে নেমে খেলতে পারলে তার জেদ যে কতোটা ভয়ংকর হয় প্রতিপক্ষের জন্য, সেটাই দেখিয়ে দিচ্ছেন ৩৩ বছর বয়সী ব্রাজিল তারকা।

চোট নিয়েও খেলে যাওয়া প্রসঙ্গে নেইমার বলেন, “মাঠে থাকতে যে পরিশ্রম করি, অ্যাথলেট হিসেবে নিজের স্বাস্থ্যের দিকটাই আগে দেখি, ক্যারিয়ারের ক্ষতি হতে পারে, এমন কিছু করি না। তবু যা হওয়ার হচ্ছে। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চোটের সঙ্গে লড়ছি। এগুলো কাটিয়ে উঠে আবার পুরোপুরি ফেরার চেষ্টা করছি।”