সময়টা ভালো যাচ্ছিল না, সেটা অস্বীকারের সুযোগ নেই। তবু আয়ারল্যান্ড সিরিজ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনায় ছিলেন জাকের আলী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তাঁর। ফর্মের অভাব আর একই ধরনের আউট—এই দুইয়ে মিলিয়েই থেমে গেছে জাকেরের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
নির্বাচকদের ভাবনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল ধারাবাহিকতা। সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যানও জাকেরের পক্ষে কথা বলেনি। শেষ নয়টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসের পাঁচটিতেই তিনি আউট হয়েছেন এক অঙ্কের রানে। জুলাইয়ে পাকিস্তান সিরিজের পর থেকে আর কোনো ফিফটির দেখা পাননি এই ব্যাটার।
আরও স্পষ্ট করে বললে, শেষ ১৪ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে ৩০ ছোঁয়া রান এসেছে মাত্র দুবার। এমন পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ভরসা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে—নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে।
তবে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল মনে করেন, জাকেরের ক্ষেত্রে ভাগ্যও সহায় হয়নি।
সিলেটে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ক্রিকেটে একটু ভাগ্যও লাগে। আমি মনে করি সে দুর্ভাগা। আসলে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একটা ম্যাচ খেলার পর বাকি দুইটা ম্যাচ খেলতে পারেনি। যদি সেখানে খেলতে পারত, তাহলে হয়তো ছন্দে চলে আসত।”
ঘরোয়া ক্রিকেটেও জাকেরের সময়টা সহজ যাচ্ছে না। এবারের বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে তিন ম্যাচে খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে দুই ম্যাচেই আউট হয়েছেন ৬ রান করে। একটি ম্যাচে ১৭ বলে ২৯ রান এলেও সেটাকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি।
ওই ইনিংসটি কাছ থেকে দেখেছেন রংপুর রাইডার্সের সহকারী কোচ আশরাফুল। তাঁর মতে, এমন সময় খেলোয়াড়কে আরও বেশি সমর্থন দরকার।
আশরাফুল বলেন, “সবার একটু সমর্থন করা উচিত। আমি মনে করি, আমাদের সবারই দায়িত্ব যে আমরা তাকে ব্যাক করব। সমালোচনা যদি একটু কম করা যায়, তাহলে ভালো। যদিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগ—এটার সঙ্গে আপনাকে লড়াই করতেই হবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত, সে ফিরে আসবে।”
বিশ্বকাপ স্কোয়াডের বাইরে থাকা মানেই শেষ হয়ে যাওয়া নয়—বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন উদাহরণ কম নেই। জাকের আলীর ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জটা এখন নিজের ছন্দটা ফেরানো। সুযোগ এলে প্রস্তুত থাকাই তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় কাজ।

