ইন্টার মায়ামিতে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি।ইন্টার মায়ামিতে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। ছবি: ইন্টার মায়ামি

ক্রিকফুট এক্সপ্লেইনার

ফুটবলবিশ্বে গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক যে আলোচনা চলছে, তা অনেক অভিজ্ঞ দর্শককেও খানিকটা থমকে দিয়েছে। প্রশ্নটা সরাসরি—লিওনেল মেসি কি আবার ইউরোপে ফিরছেন? আর ফিরলে কি তাঁর গন্তব্য হতে পারে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব লিভারপুল?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি কয়েকটি ইংলিশ ফুটবলভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে এই আলোচনা ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি, তবু আলোচনার পেছনে যে যুক্তিগুলো সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলো একেবারে কল্পনাপ্রসূতও নয়।

চলতি মৌসুমে লিভারপুলের আক্রমণভাগ প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি। বিশেষ করে আলেকজান্ডার ইসাকের চোট দলের আক্রমণকে কিছুটা ভোঁতা করে দিয়েছে। যদিও তাঁর দ্রুত ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে, তবু এই সময়টায় একজন এমন খেলোয়াড়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে, যিনি মাঠে নামামাত্র পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।

এই প্রেক্ষাপটেই আলোচনায় এসেছে মেসির নাম। গুঞ্জনকারীদের যুক্তি—ছয় মাসের জন্য স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে এমন একজন ফুটবলার, যিনি বড় মঞ্চে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে সক্ষম, কিন্তু ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবেন না—এই বিবেচনায় মেসির বিকল্প খুব বেশি নেই।

বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মেজর লিগ সকারের সূচি অনুযায়ী এই সময়টায় তিনি নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের বাইরে। সেই বিরতিটাকেই ইউরোপে স্বল্পমেয়াদি লোনে ফেরার সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন আলোচনাকারীরা। তাঁদের মতে, এতে করে মেসির ম্যাচ ফিটনেস ও প্রতিযোগিতামূলক ধার বজায় থাকবে, আবার ইন্টার মায়ামির প্রকল্পেও বড় কোনো ছন্দপতন ঘটবে না।

লিভারপুলের জন্য বিষয়টি শুধু মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ থাকত না। বাণিজ্যিক দিক থেকেও মেসির মতো একজন ফুটবলারের আগমন প্রিমিয়ার লিগকে কয়েক মাসের জন্য বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে আসতে পারত। ক্লাব ব্র্যান্ডিং, সম্প্রচারমূল্য ও বৈশ্বিক আগ্রহ—সবকিছুতেই এর প্রভাব হতো সুদূরপ্রসারী।

তবে বাস্তবতা এখানেই থেমে যায় না। এমন সিদ্ধান্তে আর্থিক হিসাব, শারীরিক ঝুঁকি এবং চুক্তিগত জটিলতা জড়িয়ে থাকে। স্বল্পমেয়াদি লোনে ঝুঁকি কিছুটা কম হলেও, মেসির মতো নামের ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কভাবে বিবেচনা করতে হয়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন ইন্টার মায়ামিকে ঘিরেই। ক্লাবটির পুরো ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু মেসি। তাঁর শারীরিক অবস্থা কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে তারা যাবে, এমন ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। উপরন্তু, এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা আলোচনার খবরও নেই।

ইন্টার মায়ামি আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে প্রাক-মৌসুম মেডিকেল পরীক্ষা শুরু করবে। এরপর ২৪ জানুয়ারি থেকে দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি ক্লাবের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা। সবশেষে, ২১ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে মেজর লিগ সকারের নতুন মৌসুম।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মেসির লিভারপুলে যাওয়ার গল্পটি আপাতত আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ। বাস্তব রূপ পাওয়ার আগে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।