বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিসিবি। বোর্ড জানিয়েছে, নাজমুল ইসলামের বক্তব্য বিসিবির আনুষ্ঠানিক মত নয় এবং ওই মন্তব্যের দায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা নিচ্ছে না।
রোববার রাতে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, বোর্ডের কোনো পরিচালক বা সদস্য ব্যক্তিগতভাবে যে বক্তব্য দেন, তা বিসিবির নীতি কিংবা অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত নয়। সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে কেউ আহত বা বিব্রত হয়ে থাকলে সে জন্য দুঃখ প্রকাশও করেছে বোর্ড।
বিসিবির ব্যাখ্যা: ব্যক্তিগত মতামতই মূল কারণ
বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে বোর্ডের মনোনীত মুখপাত্র কিংবা মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস বিভাগের বাইরে দেওয়া বক্তব্য বিসিবির বক্তব্য হিসেবে ধরা যাবে না। সংশ্লিষ্ট মন্তব্যগুলো ব্যক্তিগত পর্যায়ের এবং সেগুলোর দায় বোর্ড নেবে না।
এ ছাড়া বিসিবি স্পষ্ট করেছে, এমন কোনো বক্তব্য বা আচরণ যদি ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মানজনক হয় কিংবা দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কী বলেছিলেন নাজমুল ইসলাম
এর আগে রোববার বিকেলে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এম নাজমুল ইসলাম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে কথা বলেন।
তিনি জানান, এবারের বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত আইসিসি থেকে বিসিবির রাজস্ব আয়ে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন ক্রিকেটাররাই, কারণ তাঁরা ম্যাচ ফি ও প্রাইজমানি থেকে বঞ্চিত হবেন।
এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিসিবির কোনো উদ্যোগ থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল ইসলাম বলেন, ক্রিকেটাররা যদি মাঠে গিয়ে কিছুই করতে না পারেন, তাহলে তাদের পেছনে বোর্ড যে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, সেই টাকা ফেরত চাওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নও তোলা যেতে পারে।
পরবর্তীতে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ক্রিকেট এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি। সে কারণেই বারবার ব্যর্থতার দায় ক্রিকেটারদের ওপর বর্তানো যায় কি না—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন তিনি।
Read More:
কোয়াবের আলটিমেটাম: হয় নাজমুলের পদত্যাগ, না হয় সব খেলা বন্ধ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়
নাজমুল ইসলামের এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই মন্তব্যটিকে ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মানজনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিসিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান জানাতে হয়।
বোর্ডের অঙ্গীকার
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি আরও জানায়, ক্রিকেটারদের স্বার্থ, সম্মান ও পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করাই বোর্ডের মূল লক্ষ্য। পারস্পরিক সম্মান, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

