আইসিসি ও বিসিবির লোগো

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার ঢাকায় আসছেন সংস্থাটির একজন প্রতিনিধি। বিসিবি মনে করছে, মুখোমুখি আলোচনায় বসার এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত।

এর আগে আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসবে। তবে ভিসা জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত একজনই আসছেন। তিনি আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের অন্তর্বর্তীকালীন মহাব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। ব্রিটিশ পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা আগে একই বিভাগের অপারেশন্স ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঢাকায় অবস্থানকালে আইসিসির প্রতিনিধি বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। বিশ্বকাপ আয়োজন বা অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয়—সব বিষয়ই আলোচনায় আসবে বলে জানা গেছে।

এর আগে কয়েক দিন আগে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে একটি ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষে বিসিবি জানায়, আইসিসি ভারতেই বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আগের অবস্থান থেকে না সরে বিসিবি জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তা প্রশ্নে তারা আপসহীন।

‘স্ট্যান্ড একটাই, নড়িনি’

আইসিসির প্রতিনিধি ঢাকায় আসার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান।

তিনি বলেন, “আমরা একটা মেইল দিয়েছি, উনারা উত্তর দিয়েছে, আমরা আবার মেইল দিয়েছি। তারপরে একটা জুম মিটিং হইছে। জুম মিটিংয়ের পরে এখন উনারা বলছে যে, সামনাসামনি বসে আলাপ করতে চায়। কিন্তু আপনারা তো জানেন যে, আমাদের স্ট্যান্ড একটাই। আমরা সেখান থেকে নড়ে যাইনি।”

বিশ্বকাপ আয়োজন বা অংশগ্রহণের বিষয়ে বিসিবির আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তিনি, “আমরা অবশ্যই চাই খেলাটা হোক। ক্রিকেট চলমান থাকা উচিত। দেখা যাক, কালকে কী হয়।”

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেই পুরো বিষয়টি দেখভাল করছেন বলে জানান ইফতেখার রহমান। তাঁর আশা, আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষে ইতিবাচক কিছু বেরিয়ে আসবে।

“পুরো প্রোগ্রামটা আসলে প্রেসিডেন্ট সাহেব জানেন। প্রেসিডেন্ট সাহেব, ভাইস-প্রেসিডেন্ট উনারা বসবেন। আমরা আশা করছি, ভালো একটি ফল পাব,” বলেন তিনি।

নিরাপত্তা ইস্যুই যে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে, সেটাও স্পষ্ট করেন এই বিসিবি পরিচালক।

“আমাদের বোর্ড বলেন, আমাদের সরকার বলেন—সবাই মনে করি যে, আমাদের দল ও ক্রিকেটাররা নিরাপদ নয় (ভারতে)। এটা নিয়েই মনে হয় মূলত আলাপ হবে।”

সবশেষে ইফতেখার রহমান বলেন, “এটা সত্যি বলতে, প্রেসিডেন্ট সাহেব একদম নিজে একা সামলাচ্ছেন। দেখা যাক, কালকে কী আউটকাম হয়। আমি যেটা দেখি, এটা ভালো ইঙ্গিত যে অন্তত কেউ আসছেন। এখন তো একদম স্ট্যান্ডস্টিল অবস্থায় আছে।”