ক্রিকফুট এক্সপ্লেইনার
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) একাদশ আসর সামনে রেখে খেলোয়াড় বাছাই পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম দশ মৌসুমে ড্রাফট পদ্ধতিতে দল গঠন হলেও, এবার সেই কাঠামো বদলে যেতে পারে। ড্রাফট ও নিলামের সংমিশ্রণে একটি নতুন মডেল—যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ড্রাকশন’—বিবেচনায় নিচ্ছে পিএসএল কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।
‘ড্রাকশন’ কী
পিসিবির বিবৃতিতেই প্রথমবারের মতো ‘ড্রাকশন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। মূলত এটি ড্রাফট ও নিলামের মধ্যবর্তী একটি পদ্ধতি। যেখানে দল গঠনে ড্রাফটের কাঠামো বজায় থাকবে, তবে নিলামের কিছু উপাদান যুক্ত হতে পারে।
এই পরিবর্তনের ভাবনা এসেছে মূলত লিগে দুটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত হওয়ায়। আসন্ন মৌসুমে হায়দরাবাদ ও শিয়ালকোটকে নতুন দল হিসেবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসএল।
শুক্রবারের বৈঠকে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মুলতান সুলতানসের পক্ষে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেছে পিসিবি। তবে খেলোয়াড় রিটেনশন, ড্রাফট না নিলাম—এই দুই বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি।
শেষ পর্যন্ত বৈঠক মুলতবি করা হয় এবং বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। শনিবার সেই গ্রুপের বৈঠকের পর প্রয়োজনে আবার গভর্নিং কাউন্সিল বসবে।
নতুন দল, পুরোনো জটিলতা
নতুন দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত হওয়ায় খেলোয়াড় ধরে রাখার প্রশ্নটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে পুরোনো দলগুলো চায় নিজেদের তারকা ক্রিকেটারদের ধরে রাখতে, অন্যদিকে নতুন দলগুলো চায় বড় পরিসরের খেলোয়াড় তালিকা থেকে পছন্দের ক্রিকেটার বেছে নেওয়ার সুযোগ।
এ বিষয়ে এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি কম রিটেনশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের যুক্তি, বেশি রিটেনশন থাকলে শক্তিশালী স্কোয়াড গড়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।
এই দলগুলোর মালিকরাই মূলত ড্রাফটের বদলে পুরোপুরি নিলাম বা নিলামভিত্তিক কোনো পদ্ধতির পক্ষে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। বিপরীতে, বিদ্যমান বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি ড্রাফট পদ্ধতি চালু রাখার পক্ষেই রয়েছে।
যদি মতপার্থক্য থেকেই যায়, সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে পিএসএল চেয়ারম্যানের হাতে। তবে পিএসএল কর্তৃপক্ষ আপাতত আলোচনা চালিয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
পিসিবির বিবৃতি অনুযায়ী, পিএসএলের একাদশ আসর শুরু হবে ২৬ মার্চ। কর্তৃপক্ষ একে লিগের ‘নিউ এরা’ হিসেবে দেখছে।
এদিকে মুলতান সুলতানসের মালিকানা নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি। আগের মালিক আলি তারিন সরে দাঁড়ানোর পর ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পিসিবি। তবে হায়দরাবাদ ও শিয়ালকোট ফ্র্যাঞ্চাইজির উচ্চমূল্য পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত বদলেছে বোর্ড।
এখন টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই মুলতান সুলতানসকে নিলামে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পিসিবি। এ মাসের শেষ নাগাদ কারিগরি দরপত্র জমা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, খেলোয়াড় বাছাই পদ্ধতি থেকে শুরু করে মালিকানা—পিএসএলের সামনে এখন সিদ্ধান্তের সময়। ‘ড্রাকশন’ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে ক্রিকেটপাড়া।

