tawhid hridoyওপেনার ভূমিকায় বিপিএলে দারুণ খেলছেন হৃদয়।

বিপিএলের শুরুটা তাওহিদ হৃদয়ের জন্য ছিল বেশ হতাশার। প্রথম ছয় ম্যাচে রান এসেছে মাত্র ১০৬, স্ট্রাইক রেটও ছিল চোখে পড়ার মতো নয়। ব্যাটে ছন্দহীন এই সময়েই রংপুর রাইডার্স নেয় এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—হৃদয়কে ওপেনিংয়ে নামানো।

দলের প্রয়োজনেই ওপেনিংয়ে রাজি হন হৃদয়। আর ব্যাটিং অর্ডারের এই পরিবর্তনেই যেন বদলে যায় পুরো গল্প। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ওপেনার হিসেবে নেমে ৫৬ বলে ৯৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর আরও একটি ফিফটি। আজ নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে খেললেন সেঞ্চুরির ইনিংস, জিতিয়েই মাঠ ছাড়লেন দলকে।

এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে প্রায় ১৪০ স্ট্রাইক রেটে ৩৭৮ রান করে বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হৃদয়ই।

তবে বিপিএলে ওপেনিংয়ে সাফল্য পেলেও জাতীয় দলে নিজের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট তাওহিদ হৃদয়। তিনি নিজেকে এখনো মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যান হিসেবেই দেখছেন। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—সেখানেও হৃদয়ের ভূমিকা থাকবে মাঝের সারিতে।

মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসের সঙ্গে হওয়া এক আলাপের কথাও তুলে ধরেন হৃদয়।

তাঁর ভাষায়, “লিটন ভাই আমাকে বলেছে, যদি সবকিছু ঠিক থাকে, বিশ্বকাপে তো আমি মিডল অর্ডারেই খেলব। তাই মিডল অর্ডারে খেললে যেন সেটা আমার জন্য প্রস্তুতি হয়। কারণ, মিডলে খেলাটা আলাদা ধরনের খেলা।”

হৃদয়ও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছেন। ওপেনিংয়ে নামলেও মাথায় ছিল মিডল অর্ডারের দায়িত্ববোধ।

তিনি বলেন, “অনেকে মনে করে মিডল অর্ডারে মানেই শুধু ফিফটি করা। কিন্তু ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসও মিডলে খেলেই আসে। আমি শুরুতে তিন–চারে খেলেছি। পরে দলের সিদ্ধান্তে ওপেনিংয়ে নেমেছি।”

হৃদয়ের ওপেনিংয়ে সাফল্য রংপুরের জন্যও এসেছে কাজে। শেষ দল হিসেবে তারা প্লে–অফ নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, জাতীয় দলের নিয়মিত ওপেনারদের ফর্ম এবারের বিপিএলে খুব একটা স্বস্তির নয়। তানজিদ হাসান ১০ ম্যাচে পেয়েছেন মাত্র একটি ফিফটি। পারভেজ হোসেন রান পেলেও বেশির ভাগ ম্যাচে নেমেছেন চার নম্বরে। ওপেনিংয়ের ভাবনায় থাকা লিটন দাস পুরো টুর্নামেন্টেই ফিফটির মুখ দেখেননি। সাইফ হাসান একমাত্র ফিফটি করেছেন আজ।

তবু জাতীয় দলে ওপেনার হওয়ার কোনো তাড়াহুড়া নেই হৃদয়ের। বরং অভিজ্ঞ ওপেনারদের ওপর আস্থা রাখার পক্ষেই তিনি।

হৃদয়ের কথায়, “আমার মনে হয়, খুব তাড়াতাড়ি কাউকে অনেক ওপরে তোলা হয়, আবার খুব তাড়াতাড়ি নিচে নামানো হয়। আমি অনুরোধ করব, একটু ধৈর্য ধরতে। শেষ এক বছরে ওরাও ভালো পারফর্ম করেছে, সিরিজও জিতিয়েছে।”