সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার জাহানারা আলম ও নারী দলের সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানি ও অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। তবে এই প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা এবং বিসিবির ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। আজ তাঁর নিযুক্ত আইনি প্রতিষ্ঠান ‘মাহবুব অ্যান্ড কোম্পানি’ এক বিবৃতির মাধ্যমে বিসিবির লুকোছাপা ও অস্পষ্টতার কড়া সমালোচনা করেছে।

গত ৭ নভেম্বর একটি ইউটিউব সাক্ষাৎকারে নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ চারটি গুরুতর অভিযোগ তোলেন জাহানারা আলম। এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করে বিসিবি।

এরপর ২ ফেব্রুয়ারি জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটির সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ‘অসদাচরণ ও হয়রানির’ প্রমাণ মিলেছে।

জাহানারা আলমের আপত্তির জায়গা কোথায়?

তদন্ত শেষ হলেও জাহানারা আলমের আইনজীবীদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি এখন ধোঁয়াশায় ঘেরা। তাদের আপত্তির মূল কারণগুলো হলো:

প্রতিবেদনের গোপনীয়তা: অভিযোগকারী হওয়া সত্ত্বেও জাহানারাকে তদন্ত প্রতিবেদনের কোনো অনুলিপি সরবরাহ করা হয়নি। আইনজীবীরা ইমেইল করলে বিসিবি জানিয়েছে, এটি বর্তমানে লিগ্যাল টিমের পর্যালোচনায় রয়েছে।

অস্পষ্ট তথ্য: চারটি অভিযোগের মধ্যে কোন দুটি প্রমাণিত হয়েছে এবং কিসের ভিত্তিতে এই প্রমাণ মিলেছে, তা বিসিবি পরিষ্কার করেনি। গুরুতর এই বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন অস্পষ্টতাকে হতাশাজনক বলছেন জাহানারার আইনজীবীরা।

কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক: বিসিবি দাবি করেছে তারা ‘নিজস্ব উদ্যোগে’ কমিটি গঠন করেছে। তবে জাহানারার পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, মূলত তাঁর করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল।

মঞ্জুরুল ইসলামের বিষয়ে বিসিবির অবস্থান

মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার আওতায় অসদাচরণের প্রমাণ মিললেও, তাঁর সাথে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ গত বছরের ৩০ জুনই শেষ হয়ে গেছে। তবে বিসিবি জানিয়েছে, তারা হয়রানি ও অসদাচরণের বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে অটল।

বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলামের নির্দেশে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী রুবাবা দৌলাকে প্রধান করে একটি স্থায়ী অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপ

জাহানারা আলম তদন্ত সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি পেলেও লড়াই থামিয়ে দেননি। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছেন, যৌন হয়রানি ও প্রতিশোধমূলক আচরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা অত্যাবশ্যক।

বিসিবি শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদনটি জাহানারার কাছে হস্তান্তর করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।