শ্রীলঙ্কাকে হারালেও পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান হতাশ।শ্রীলঙ্কাকে হারালেও পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান হতাশ। ছবি: এএফপি

নাটকের পর নাটক! কলম্বোর মাঠে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল এক চরম উত্তেজনার মহাকাব্যে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। শাহিন আফ্রিদির করা প্রথম চার বলে ২২ রান তুলে সমীকরণ ২ বলে ৬ রানে নামিয়ে আনেন লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; শাহিনের বুদ্ধিদীপ্ত দুটি ডট বলে ৫ রানের জয় পায় পাকিস্তান। তবে এই জয় কেবল সান্ত্বনাই হয়ে থাকল, কারণ রান রেটে পিছিয়ে থাকায় নিউজিল্যান্ডের কাছে সেমিফাইনালের টিকিট হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে পাকিস্তানকে।

ফারহান-ফখরের রেকর্ড জুটির পর..

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেছিল পাকিস্তান। দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান উদ্বোধনী জুটিতেই ১৭৬ রান যোগ করেন। ফখর ৪২ বলে ৮৪ রান করে আউট হলেও ফারহান ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন (৬০ বলে ১০০ রান)। তবে ১৬তম ওভারের পর দৃশ্যপট বদলে যায়। প্রথম উইকেট হারানোর পর শেষ ২৫ বলে মাত্র ৩৬ রান তুলতে ৮টি উইকেট হারায় পাকিস্তান। লঙ্কান পেসার মাদুশঙ্কা ও শানাকার তোপে ৮ উইকেটে ২১২ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।

পাকিস্তানের বিদায়

পাকিস্তানের সেমিফাইনালে যাওয়ার শর্ত ছিল শ্রীলঙ্কাকে অন্তত ৬৫ রানে হারানো। কিন্তু ১৬তম ওভারে শ্রীলঙ্কা যখন ১৪৮ রান পার করে, তখনই পাকিস্তানের সেমির স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। পাকিস্তানের বিদায়ের সাথে সাথে গ্রুপ ২ থেকে নিউজিল্যান্ডের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়।

শেষ ওভারের রোমাঞ্চ

২১২ রান তাড়া করতে নেমে রত্নায়েকে (৫৮) ও শানাকার ব্যাটে জয়ের পথেই ছিল শ্রীলঙ্কা। বিশেষ করে শেষ ওভারে শাহিন আফ্রিদির ওপর ঝড় বইয়ে দেন শানাকা।

প্রথম বল: ৪ (থার্ডম্যান দিয়ে)

দ্বিতীয় বল: ৬ (কাভার বাউন্ডারির ওপর দিয়ে)

তৃতীয় বল: ৬ (স্কয়ার লেগ দিয়ে)

চতুর্থ বল: ৬ (সুইপার কাভার দিয়ে)

৪ বলে ২২ রান আসার পর ২ বলে দরকার ছিল ৬ রান। পঞ্চম বলে শানাকা স্কুপ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। শেষ বলটি অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে থাকলেও আম্পায়ার ওয়াইড না দেওয়ায় হতাশ হন লঙ্কান কোচ জয়াসুরিয়া ও শানাকা (৭৬*)।

পাকিস্তান ৫ রানে জিতলেও ৩ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২১২/৮ (ফারহান ১০০, ফখর ৮৪; শানাকা ২/৪২)।
শ্রীলঙ্কা: ২০৭/৬ (শানাকা ৭৬*, রত্নায়েকে ৫৮; আবরার ৩/২৩)।

ফল: পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: সাহিবজাদা ফারহান।