ব্রাজিলের মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালটি রূপ নিল এক বিভীষিকায়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রুজেইরো ও আতলেতিকো মিনেইরো’র মধ্যকার ম্যাচ শেষে ফুটবলাররা একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, নিরাপত্তারক্ষী ও মিলিটারি পুলিশকে মাঠে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে। ঘটনার পর রেফারি মাতিউস কান্দানসান ২৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখিয়ে ফুটবল বিশ্বে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন।
যেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত
ম্যাচে কাইও হোর্হের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল তিতের প্রশিক্ষিত ক্রুজেইরো। কিন্তু ইনজুরি টাইমে আতলেতিকো গোলরক্ষক এভারসন মেজাজ হারিয়ে ক্রুজেইরোর মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ানকে মাটিতে ফেলে বুকের ওপর হাঁটু দিয়ে চেপে ধরলে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দুই দলের খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফরা মাঠে একে অপরের সাথে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন।
লাল কার্ডের মিছিলে হাল্ক-রেনান লোডি
ম্যাচ চলাকালীন রেফারি কোনো কার্ড না দেখালেও, পরে ম্যাচ রিপোর্টে ২৩ জনকে লাল কার্ড দেখানোর ঘোষণা দেন। এই তালিকায় আছেন সাবেক ব্রাজিলিয়ান তারকা হাল্ক এবং সাবেক আতলেতিকো মাদ্রিদ ডিফেন্ডার রেনান লোডি। ক্রুজেইরোর ১২ জন এবং আতলেতিকোর ১১ জন ফুটবলারকে এই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
অনুতপ্ত হাল্ক
ম্যাচ শেষে ৩৯ বছর বয়সী কিংবদন্তি স্ট্রাইকার হাল্ক অনুতপ্ত বলে মন্তব্য করেন।
হাল্ড বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিশ্বজুড়ে এমন উদাহরণ তৈরি করতে পারি না। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ছিল।”
উল্লেখ্য, পেশাদার ফুটবলে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ডটি আর্জেন্টিনার (৩৬টি), তবে ব্রাজিলের শীর্ষ পর্যায়ে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। শিরোপা জিতলেও ক্রুজেইরোর উৎসব ম্লান হয়ে গেছে এই অপ্রীতিকর ঘটনায়।

