আর্তেতার কোচিং স্টাফে ২০২৫ সালে যোগ দেন হেইঞ্জ।আর্তেতার কোচিং স্টাফে ২০২৫ সালে যোগ দেন হেইঞ্জ। ছবি: গেটি ইমেজেস

২০০১ সালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) ড্রেসিংরুমে ১৮ বছরের এক লাজুক কিশোর মিকেল আর্তেতাকে আগলে রেখেছিলেন পচেত্তিনো আর গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জ। সেই থেকে শুরু হওয়া ২৫ বছরের এই বন্ধুত্ব এখন আর্সেনালের ডাগআউটে এক নতুন বিপ্লব ঘটাচ্ছে। টানা তিনবার তীরে এসে তরী ডুবানোর পর, দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে আর্তেতা পাশে টেনে নিয়েছেন তাঁর সেই ‘বড় ভাই’ হেইঞ্জকে।

দুই আগ্নেয়গিরির যুগলবন্দি

আর্সেনালের সাবেক মিডফিল্ডার এদুয়ার্দ সিসে আর্তেতা ও হেইঞ্জের জুটিকে তুলনা করেছেন ‘দুটি আগ্নেয়গিরি’র সাথে।

সিসের মতে, “আর্তেতা মাঝে মাঝে গর্জে ওঠেন, কিন্তু হেইঞ্জ সবসময়ই তেতে থাকেন। আর্তেতার পক্ষে সারাক্ষণ খেলোয়াড়দের ওপর চিৎকার করা সম্ভব নয়, ঠিক এই জায়গাটিতেই হেইঞ্জ তাঁর কাজটা সহজ করে দিচ্ছেন।”

আর্জেন্টিনা, রিয়াল মাদ্রিদ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলা হেইঞ্জের জেতার নেশা এবং রক্ষণভাগের গভীর জ্ঞান গানার্স ডিফেন্ডারদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রক্ষণের নতুন দেয়াল

চলতি মৌসুমে ইংল্যান্ডের সেরা রক্ষণভাগ হিসেবে আর্সেনালের যে উত্থান, তার পেছনে হেইঞ্জের অবদান অনস্বীকার্য। হেইঞ্জ মূলত ডিফেন্ডারদের পজিশনিং, ট্যাকলিং এবং ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। সালিবা-গ্যাব্রিয়েলদের মতো প্রতিভাবান ডিফেন্ডাররা যখন হেইঞ্জের মতো অভিজ্ঞ একজনের কাছ থেকে পরামর্শ পাচ্ছেন, তখন তাদের খেলায় এক অন্যরকম কাঠিন্য ফুটে উঠছে।

বিশ্বাসের অন্য নাম হেইঞ্জ

আর্তেতা এমন একজনকে চেয়েছিলেন যার ওপর তিনি চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারেন। হেইঞ্জ কেবল একজন সহকারী কোচ নন, তিনি আর্তেতার পরিবারের অংশ। পিএসজিতে লুইস ফার্নান্দেজের অধীনে খেলা সেই দিনগুলোই আজ আর্সেনালের সাফল্যের নীল নকশা তৈরি করছে। ফার্নান্দেজ নিজেও তাঁর এই দুই শিষ্যের সাফল্যে গর্বিত।

আর্সেনাল যখন লিগ শিরোপা জয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে লড়ছে, তখন মাঠের কৌশল ছাপিয়ে ডাগআউটের এই পারিবারিক বন্ধনই হতে পারে গানার্সদের ২৩ বছরের আক্ষেপ মেটানোর মূল চাবিকাঠি।