ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে নামার আগেই শুরু হয়ে গেল ছায়াযুদ্ধ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যাদের হাতে তাদের নেতার রক্ত লেগে আছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাবে না ইরান দল।
‘দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে আমরা নেই’
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে দানিয়ামালি বলেন, “যে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে, কোনো পরিস্থিতিতেই তাদের দেশে আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারি না। আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা যেখানে নেই, সেখানে খেলতে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের ড্র অনুযায়ী ইরান ‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গী ছিল এবং তাদের সবকটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা ছিল।
ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর তোড়জোড়
ইরানকে ফিরিয়ে আনতে সরাসরি ময়দানে নেমেছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইনফান্তিনো আশার কথা শুনিয়েছিলেন। তিনি জানান, ট্রাম্প তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি নেই।
ট্রাম্প বলেছিলেন, “ইরান টুর্নামেন্টে অংশ নিলে আমার কোনো সমস্যা নেই।” কিন্তু তেহরানের কঠোর মনোভাবে সেই আলোচনা আপাতত ব্যর্থ বলেই মনে হচ্ছে।
ফিফার কড়া নজর ও অনিশ্চয়তা
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হেইমো শিরগি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বা বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বকাপ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে ইরান যদি শেষ পর্যন্ত না খেলে, তবে ফিফা কী ব্যবস্থা নেবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এর আগে ইসরায়েলকে আতিথ্য দিতে না চাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের স্বাগতিক মর্যাদা কেড়ে নিয়েছিল ফিফা। এবার আয়োজক খোদ যুক্তরাষ্ট্র হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা যখন তুঙ্গে, তখন বিশ্বকাপ কি পারবে সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে? নাকি রাজনীতির বলির পাঠা হবে ফুটবল? এখন পুরো বিশ্বের চোখ জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

