ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। কোচ কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিষ্কার বার্তা দিয়ে দিয়েছেন—নাম কিংবা অতীত ইতিহাস দেখে নয়, পারফরম্যান্স আর ফিটনেস দেখেই মিলবে জাতীয় দলের টিকিট। আর এই কঠোর বার্তার প্রথম বড় শিকার স্বয়ং নেইমার জুনিয়র। গত সোমবার ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত ব্রাজিল স্কোয়াডে জায়গা হয়নি এই মহাতারকার। এর মধ্যে আবার নতুন বিতর্কে জড়িয়ে গেছেন নেইমার।
মাঠে ফিরলেও ফিটনেসে ঘাটতি
ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে আজ ইন্টারন্যাসিওনালের বিপক্ষে সান্তোসের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ম্যাচে ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও পুরো সময় মাঠে থাকতে পারেননি তিনি। ৮৯ মিনিটে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। গোল উদযাপনের সময় হলুদ কার্ড দেখা ছাড়া ম্যাচে তেমন কোনো ঝলক দেখাতে পারেননি তিনি।
খেলা দেখে স্পষ্ট বোঝা গেছে, পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পেতে নেইমারকে এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে।
ভিডিও বিতর্ক ও সিবিএফ-এর অসন্তোষ
দলে জায়গা না পাওয়ার পর নেইমার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যা নিয়ে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনে (সিবিএফ) তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওতে নেইমারকে বলতে শোনা যায়, “আনচেলত্তি, আমার কী হবে? জাতীয় দল ঘোষণা হলো অথচ আমি ডাক পাইনি।”
তাঁর এমন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য এবং ‘আমরা বনাম তারা’ মনোভাবের বার্তা কোচিং স্টাফদের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেইমারের এই আচরণে জাতীয় দলের কর্মকর্তারা বেশ নাখোশ।
আনচেলত্তির ‘বৈজ্ঞানিক’ মাপকাঠি
কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে খেলতে হলে নেইমারকে শতভাগ ফিট হতে হবে। আগামী ১৮ মে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে। তার আগে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য নেইমারের হাতে আছে মাত্র ১৫টি ম্যাচ।
কোচিং স্টাফরা জানিয়েছেন, নাম নয় বরং ফিজিওলজিস্ট ও ট্রেনারদের দেওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে। নেইমারের জন্য কোনো ‘বিশেষ সুবিধা’ বা স্পেশাল ট্রিটমেন্টের সুযোগ নেই।
সিবিএফ সভাপতি সামির জাউদ জানিয়েছেন, দল নির্বাচনে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই এবং কোচিং স্টাফরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। নেইমারের বন্ধু ও এজেন্টরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, আনচেলত্তি নিজের সিদ্ধান্তে অটল। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১৫ ম্যাচে নেইমার তাঁর পেশাদারিত্ব আর ফিটনেস দিয়ে কোচের মন জয় করতে পারেন কি না।

