বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) জেঁকে বসা দলীয়করণ ও দুর্নীতির বলয় ভাঙতে এবার বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অবৈধ নিয়োগ এবং বিসিবির সম্পদ ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিসিবিতে শুদ্ধি অভিযান ও তদন্ত কমিটি
আজ রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিসিবির অভ্যন্তরীণ অনিয়ম নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে বিসিবিতে যারা কেবল দলীয় প্রভাবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের আমলনামা খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে বিসিবির অর্থ ও জনবল ব্যবহার করে যারা বিগত নির্বাচনগুলোতে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে সহায়তা করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব ও দুদকের সম্পৃক্ততা
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিসিবির বেশ কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অস্বাভাবিক ব্যক্তিগত সম্পদের তথ্য সরকারের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালককে তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিসিবিসহ ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।” যারা ক্রিকেট বোর্ডের সম্পত্তি ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
তৃণমূল ক্রীড়া ও নতুন পরিকল্পনা
বিসিবির সংস্কারের পাশাপাশি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ৭টি ইভেন্টে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। শিশুদের ডিভাইসের আসক্তি কমিয়ে মাঠমুখী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।

