ভারত-বাংলাদেশ দ্বৈরথ মানেই স্নায়ুচাপের লড়াই, আর তা যদি হয় সাফের ফাইনাল—তবে রোমাঞ্চের সীমা থাকে না। শুক্রবার ছুটির দিনে মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গর্জনের সামনে ভারতকে স্তব্ধ করে দিল বাংলাদেশের যুবারা। পুরো টুর্নামেন্টে আধিপত্য দেখানো ভারত ফাইনালে বাংলাদেশের জমাট রক্ষণ আর গোলরক্ষক মাহিনের দেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের লটারিতে জয় হলো বাংলাদেশের কৌশলী ফুটবল আর প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির। টানা দ্বিতীয়বার এই আসরের চ্যাম্পিয়ন হল বাংলাদেশ।
মাহিনের বীরত্ব ও টাইব্রেকারের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা
ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। ভারতের অধিনায়ক টসে জিতে প্রথমে শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শুরুতেই ধাক্কা খান। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন ভারতের প্রথম শটটি দারুণভাবে সেভ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে এনে দেন।
বাংলাদেশের পক্ষে মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম লক্ষ্যভেদ করে লিড ধরে রাখেন। তবে চতুর্থ শটে স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লাগলে স্কোরলাইন ৩-৩ সমতায় ফেরে, যা স্টেডিয়ামে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
রোনান সুলিভান: স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে এক নায়ক
টাইব্রেকারের শেষ শটে ভারতের সর্বোচ্চ গোলদাতার শট পোস্টের উপর দিয়ে চলে গেলে সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। আমেরিকান প্রবাসী Ronan Sullivan যখন শট নিতে আসেন, তখন পুরো গ্যালারি নিস্তব্ধ। অসামান্য দক্ষতায় গোল করে তিনি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের শিরোপা।
পুরো ম্যাচে ভারত তাকে কড়া পাহাড়ে রাখলেও রোনান তাঁর জাত চিনিয়েছেন। এমনকি তাঁর ভাই ডেকলান বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তে রোনানকে যে পাসটি দিয়েছিলেন, তা থেকে গোল হতে পারত যদি ভারতের গোলরক্ষক বাধা না হয়ে দাঁড়াতেন।
আরও পড়ুন: মানিকের বুলেট হেডে হারল নেপাল: সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ
প্রবাসী ফুটবলার ও আগামীর স্বপ্ন
এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে আমেরিকান প্রবাসী দুই ভাই রোনান ও ডেকলানের অন্তর্ভুক্তি। তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও টেকনিক্যাল ফুটবল বাংলাদেশের আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
এবার সাফের একই গ্রুপে থাকায় দুই দল একে অপরকে ভালোভাবে চিনত, ফলে আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে ম্যাচটি ছিল দেখার মতো। গোলরক্ষক মাহিনের কিছু ছোট ভুল থাকলেও সামগ্রিকভাবে পোস্টের নিচে তাঁর আত্মবিশ্বাসই ভারতকে গোলবঞ্চিত রেখেছে।

