সান্তোসের জার্সিতে নেইমার ও আতলেতিকো মিনেইরোর জার্সিতে হাল্ক।ব্রাজিল লিগে সান্তোসের নেইমার ও আতলেতিকো মিনেইরোর হাল্ক। ছবি: গেটি ইমেজেস

২০২৬ বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ব্রাজিল ফুটবল দলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম—নেইমার জুনিয়র। দলের সেরা তারকাকে নিয়ে যখন পুরো ফুটবল বিশ্ব দ্বিধাবিভক্ত, তখন সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার হাল্ক। Neymar-এর বিশ্বকাপ দলে থাকা না থাকা নিয়ে হাল্কের রহস্যময় মন্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

নেইমারকে নিয়ে হাল্কের ‘ঠান্ডা’ প্রতিক্রিয়া

Brazil লিগে সান্তোসের কাছে আতলেতিকো মিনেইরোর ১-০ গোলে হারের পর হাল্কের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাংবাদিকরা। প্রশ্ন ছিল সোজা—নেইমারকে কি আগামী বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পরিকল্পনায় রাখা উচিত? উত্তরে হাল্ক কোনো সমর্থন তো দিলেনই না, বরং বেশ কৌশলী অবস্থান নিলেন।

Hulk বলেন, “দুঃখিত, আমি কেবল ম্যাচের দিকেই মনোযোগী ছিলাম। বিশ্বকাপে কে যাবে না যাবে তা ঠিক করার দায়িত্ব আমার নয়। যদি সে যোগ্য হয়, তবে যাবে।”

হাল্কের এই মন্তব্য আপাতদৃষ্টিতে নিরপেক্ষ মনে হলেও ফুটবল মহলে একে নেইমারের প্রতি সমর্থনের অভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও যে নেইমারের জায়গা দলে অবধারিত ছিল, আজ সেখানে সহ-খেলোয়াড়দের এই অনীহা বড় একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: এক শর্তে নেইমারকে বিশ্বকাপে নেবেন আনচেলত্তি!

আনচেলত্তির ‘সময়সীমা’ ও নেইমারের চোট

২০২৩ সালের অক্টোবরে হাঁটুর গুরুতর চোটের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে নেইমারকে আর দেখা যায়নি। বর্তমানে Santos-এর হয়ে ক্লাব ফুটবল খেললেও তার ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নিয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখনো সন্দিহান। আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নামের ভারে নয় বরং সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েই দলে জায়গা করে নিতে হবে। নেইমারের হাতে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য সময় আছে আর মাত্র দুই মাস।

কোচ Ancelotti ফরাসি সংবাদমাধ্যম এল’ইকুইপ-কে বলেন, “নেইমার বড় মাপের প্রতিভা এবং সবাই চায় সে বিশ্বকাপ জিততে আমাদের সাহায্য করুক। তবে চোটের পর সে ফিরে আসলেও ফিটনেসের আরও উন্নতি প্রয়োজন। সে সঠিক পথেই আছে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও সময় প্রয়োজন।”

আরও পড়ুন: ব্রাজিল দলে আনচেলত্তির কঠিন কাজটা সহজ করে দিচ্ছেন নেইমার!

ভক্তদের দাবি বনাম বাস্তবতা

সম্প্রতি ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নেইমারকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। ফ্রান্সের বিপক্ষে বোস্টনের সেই ম্যাচে হারের পর গ্যালারি থেকে নেইমারের জন্য স্লোগান উঠলেও আনচেলত্তি তাতে কান দেননি। বরং বর্তমানে যারা দলে আছেন, তাদের দিকেই নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

গ্রুপ ‘সি’-তে মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের পথটা সহজ মনে হলেও দল গঠন নিয়ে এখনো অস্থিরতা কাটেনি। নেইমারের অভিজ্ঞতা দলের জন্য অমূল্য হতে পারে, কিন্তু আনফিট কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার মাশুলও অনেক বড় হতে পারে।

নেইমারের এই লড়াই কি শেষ পর্যন্ত তাকে বিশ্বকাপের বিমানে তুলবে, নাকি অভিজ্ঞতার চেয়ে বর্তমান ফর্মকেই প্রাধান্য দেবেন আনচেলত্তি? উত্তর মিলবে আগামী দুই মাসের পারফরম্যান্সেই।