হাসিমুখে বল হাতে দাঁড়িয়ে কিংবদন্তি লেগস্পিনার শেন ওয়ার্ন।শেন ওয়ার্নের মৃত্যু ঘিরে নতুন বিতর্ক। ছবি: গেটি ইমেজেস

অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগস্পিনার শেন ওয়ার্ন না ফেরার দেশে চলে গেছেন চার বছর আগে। ২০২২ সালের ৪ মার্চ থাইল্যান্ডে তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ স্তম্ভিত করেছিল ক্রিকেট বিশ্বকে। তবে সময় পেরোলেও ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না, বরং নতুন করে ডালপালা মেলছে নানা রহস্য। এবার বাবার মৃত্যু নিয়ে সরাসরি কোভিড-১৯ টিকাকে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন ওয়ার্নের ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন।

টিকার কারণেই কি ত্বরান্বিত হয়েছিল মৃত্যু?

সম্প্রতি ‘টু ওয়ার্ল্ডস কোলাইড’ নামক এক পডকাস্টে এসে জ্যাকসন দাবি করেন, জোর করে করোনা টিকা দেওয়াই তাঁর বাবার মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। জ্যাকসনের মতে, ৫২ বছর বয়সী ওয়ার্নের যদি আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা থেকে থাকে, তবে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সেটি আরও প্রকট করে তুলেছিল।

তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত এখানে টিকা জড়িত ছিল। বাবার মৃত্যুর খবরটা পাওয়ার সাথে সাথেই আমার মনে কোভিডের টিকার কথা এসেছিল।” তাঁর এমন দাবি বিশ্বজুড়ে নতুন করে তর্কের ঝড় তুলেছে।

থাইল্যান্ডের সেই রহস্যময় রাত

২০২২ সালে থাইল্যান্ডের কোহ সামুই দ্বীপের একটি রিসোর্টে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান ওয়ার্ন। সে সময় থাই পুলিশের বিরুদ্ধে ওয়ার্নের ঘর থেকে কিছু ওষুধ সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল।

এমনকি তাঁর শরীরে কোনো বিশেষ উত্তেজক ওষুধ ছিল কি না, তা নিয়েও জলঘোলা কম হয়নি। তবে ছেলে জ্যাকসন তাঁর বাবার শরীরে উত্তেজক কোনো ওষুধের অস্তিত্বের কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

রেকর্ড গড়া কিংবদন্তির আক্ষেপ

ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই জাদুকর ১৪৫ টেস্টে ৭০৮ উইকেট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন ৩৭ বার এবং ম্যাচে ১০ উইকেট শিকার করেছেন ১০ বার। ওয়ানডেতে তাঁর শিকার ২৯৩ উইকেট।

শুধু মাঠের বোলিং নয়, অধিনায়ক হিসেবেও ওয়ার্ন ছিলেন অনন্য। তাঁর নেতৃত্বেই ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। সেই রাজকীয় ক্যারিয়ারের শেষটা কেন এমন রহস্যময় হলো, তা নিয়ে ভক্তদের মনে এখনো রয়ে গেছে আক্ষেপ।

ওয়ার্নের এই মৃত্যু রহস্য আদৌ কোনো কূলকিনারা পাবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে জ্যাকসন ওয়ার্নের সাম্প্রতিক মন্তব্য শেন ওয়ার্নের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিল, যা সহসাই থামার লক্ষণ নেই।