ভিয়া বেলমিরোতে মঙ্গলবার রাতটা হতে পারত নেইমারের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প। চোট কাটিয়ে ফেরার পর সান্তোসের জার্সিতে প্রথম গোলও পেলেন ব্রাজিলিয়ান এই মহাতারকা। কিন্তু কোপা সুদামেরিকানার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে প্যারাগুয়ের অখ্যাত দল দেপোর্তিভো রিকোলিতার বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁর দলকে। আর ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় ভক্তদের দুয়োধ্বনি শুনে মেজাজ হারিয়ে বিতর্কে জড়ালেন Neymar।
গোল এল, কিন্তু জয় এল না
ম্যাচের শুরুতে নেইমারের গোলেই লিড নিয়েছিল Santos। নিজের চিরচেনা মাঠে সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে আসা রিকোলিতা সমতায় ফিরলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় ব্রাজিলিয়ান জায়ান্টদের।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘ই’-র তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সান্তোসের ভাগ্য। ম্যাচ শেষে যখন পুরো দল মাঠ ছাড়ছিল, তখন গ্যালারি থেকে ভেসে আসা দুয়োধ্বনিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ।
‘মোটা’ বলায় ভক্তের সঙ্গে ঝামেলা
ESPN Brazil-কে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় গ্যালারির দিকে আঙুল দিয়ে মুখে ‘চুপ’ করার ইশারা করেন নেইমার। কিন্তু উত্তাপ সেখানেই থামেনি। টানেলের দিকে যাওয়ার সময় এক ভক্তের মন্তব্য শুনে দাঁড়িয়ে যান নেইমার। উপহাসের সুরে সেই ভক্ত নেইমারকে লক্ষ্য করে বলেন, “তোমার আরও কঠোর অনুশীলন করা উচিত ছিল। তুমি তো মোটা হয়ে যাচ্ছো!”
সামান্য হেসে চলে যেতে গিয়েও আবার ফিরে আসেন নেইমার। ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “তুমি ঠিক… এখন খুশি তো? আমি বখাটে? আমি এখানে নিজের সবটুকু দিচ্ছি। যাও, তোমাকে তোমার ‘এক মিনিটের খ্যাতি’ দিয়ে গেলাম।”
আরও পড়ুন: নেইমার কি বাতিলের খাতায়? হাল্কের মন্তব্য ঘিরে রহস্য ঘনীভূত!
পরে ম্যাচ নিয়ে নেইমার বলেন, “আমরা ভুল করেছি, এমনটা হতেই পারে। আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছিলাম, খারাপ খেলিনি। ভক্তরা নার্ভাস হয়ে পড়েন এবং আরও বেশি দাবি করেন, কিন্তু তাঁদের বুঝতে হবে ফুটবল এমনই; সবসময় বল জালে ঢোকে না।”
নেইমার কি তবে ছন্দে?
ব্যক্তিগত আচরণের বিতর্ক ছাপিয়ে সোফাস্কোর (Sofascore) রেটিংয়ে কিন্তু নেইমারই ছিলেন মাঠের সেরা। ১০-এর স্কেলে তাঁর রেটিং ছিল ৮.৬। মাঠে তাঁর প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো:
গোল: ১টি।
কি-পাস: ৬টি (সতীর্থদের জন্য নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি)।
ড্রিবলিং: ১০টির মধ্যে ৫টি সফল।
ফাউল: প্রতিপক্ষ তাঁকে ৫ বার ফাউল করে থামাতে বাধ্য হয়েছে।
এক্সপেক্টেড অ্যাসিস্ট (xA): ১.০১।
আরও পড়ুন: এক শর্তে নেইমারকে বিশ্বকাপে নেবেন আনচেলত্তি!
সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশন
নেইমারের লক্ষ্য এখন আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ডিসেম্বরে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর এখন তিনি পুরোপুরি ফিট হওয়ার পথে। মাঠের এমন ‘অল-অ্যাকশন’ পারফরম্যান্স কোচ দরিভাল জুনিয়রকে নিশ্চয়ই ইতিবাচক বার্তা দেবে। তবে ভক্তদের সঙ্গে তাঁর এই আচরণ মাঠের বাইরের বিতর্ককে আবারও উসকে দিল।

