গতির ঝড় আর আগ্রাসী উদযাপনে এক সময় গ্যালারি মাতানো সেই রুবেল হোসেনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক যবনিকা পড়ল আজ। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবসরের ঘোষণার পর, সপ্তাহ না পেরোতেই মিরপুর শেরে-ই বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবির বিশেষ সম্মাননায় সিক্ত হলেন এই অভিজ্ঞ পেসার। সোমবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরুর আগে BCB সভাপতি তামিম ইকবালের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তিনি।
তামিমের ফোনকল ও বিদায়ী মুহূর্ত
জাতীয় দলের রাডারের বাইরে ছিলেন দীর্ঘ তিন বছর। সর্বশেষ ২০২১ সালের এপ্রিলে খেলেছিলেন লাল-সবুজের জার্সিতে। ১৫ এপ্রিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ‘গুডবাই’ জানানোর পর বিসিবি সভাপতির একটি ফোনকল আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল রুবেলকে।
সম্মাননা গ্রহণ শেষে রুবেল বলেন, “আমি যখন অবসর নেই, তখন আমাদের বোর্ড সভাপতি Tamim Iqbal আমাকে ফোন দিয়ে বলেন—‘রুবেল তোকে আমরা বিদায়ী সংবর্ধনা দিতে চাই’। বিসিবিকে এমন আয়োজনের জন্য অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।”
বিদায়বেলায় পরিবার, কোচ এবং গ্রাউন্ডসম্যানদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ২০০৯ সালে অভিষেক হওয়া এই পেসার।
সারোয়ার ইমরানকে বিশেষ স্মরণ
রুবেলের ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল রূপকথার মতো। ‘পেসার হান্ট’ কার্যক্রম থেকে উঠে আসা এই বোলারের আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন কোচ সারোয়ার ইমরান।
রুবেল তাকে আলাদাভাবে স্মরণ করে বলেন, “সারোয়ার ইমরান স্যার আমাকে তুলে এনে জাতীয় দল পর্যন্ত খেলিয়েছেন। আমি স্যারের দীর্ঘায়ু কামনা করি।”
আরও পড়ুন: অবশেষে ‘গুডবাই’ বললেন রুবেল
২০১৫ বিশ্বকাপ ও ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান
রুবেল হোসেন বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ২০১৫ বিশ্বকাপের সেই দৃশ্য। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই অবিস্মরণীয় স্পেল, যা বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিল। সেই রুবেলকে এখন থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর দেখা না গেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
পরিসংখ্যানে রুবেলের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার:
ওয়ানডে: ১০৪ ম্যাচে ১২৯ উইকেট (সেরা ২৬/৬)।
টেস্ট: ২৭ ম্যাচে ৩৬ উইকেট।
টি-টোয়েন্টি: ২৮ ম্যাচে ২৮ উইকেট।

