আইপিএলের এই আধুনিক যুগে ওপেনারদের অভাব নেই। কিন্তু তাদের ভিড়ে অভিষেক শর্মা এমন এক উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গেছেন, যা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে দেয়। তিনি কেবল রান সংগ্রাহক নন, তিনি মূলত এক ইমপ্যাক্ট মেকার। ২২ গজে যখন তিনি ব্যাট হাতে নামেন, তখন মনে হয় যেন মাঠের চারপাশ থমকে গেছে—সবাই কেবল তার ব্যাটের শাসন দেখতে উন্মুখ। অভিষেক শর্মা এখন আইপিএলের সবচেয়ে বড় ‘ব্লকবাস্টার’, যাকে দেখার জন্য মানুষ সব কাজ ফেলে গ্যালারিতে বা টিভির সামনে বসে পড়ে।
তিন কিংবদন্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ
অভিষেক শর্মার ব্যাটিং স্টাইল বিশ্লেষণ করলে মনে হয়, তিনি যেন আইপিএলের তিন লিজেন্ডারি ওপেনারের এক নিখুঁত ফিউশন। তার মধ্যে আছে ক্রিস গেইলের সেই প্রলয়ঙ্করী ছক্কা মারার ক্ষমতা। পরিসংখ্যানে তাকালে চোখ কপালে উঠবে—গেইল যেখানে প্রতি ৯ বলে একটি ছক্কা মারতেন, সেখানে অভিষেক মারছেন প্রতি ৯.৮ বলে একটি।
গেইলের মতো তাঁরও ব্যাটের সুইং খুব উঁচুতে থাকে, যা দিয়ে যেকোনো লেংথ বলকে অনায়াসেই গ্যালারিতে পাঠাতে পারেন তিনি। তবে গেইল যেখানে শুরুতে একটু সময় নিতেন, অভিষেক প্রথম বল থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হন।
আবার তাঁর ব্যাটিংয়ে আছে বীরেন্দর শেবাগের সেই নির্ভার মানসিকতা। আগের বল ডট হলো কি উইকেট অল্পের জন্য বেঁচে গেল—সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই তাঁর। শেবাগের মতোই তাঁর মন্ত্র একটাই, ‘বল দেখো এবং মারো’।
শেবাগের স্ট্রাইক রেট যেখানে ১৫৫ ছিল, অভিষেকের ক্ষেত্রে সেটা ১৬৯ ছাড়িয়ে গেছে। শেবাগ যদি এই যুগে ওপেনিং করতেন, তবে তাঁর প্রতিচ্ছবি হয়তো অভিষেকই হতেন।
অভিষেকের মাঝে ডেভিড ওয়ার্নারের সেই হার না মানা সাহস এবং পরিস্থিতি বুঝে শট খেলার বুদ্ধিমত্তাও স্পষ্ট। ওয়ার্নারের কাট শটের জোর এবং আধুনিক উইকেটে দ্রুত রান তোলার কৌশলগুলো তিনি দারুণভাবে রপ্ত করেছেন। নিজেকে অজেয় করে তুলতে নিয়মিত নিজের শটের রেঞ্জ বাড়াচ্ছেন এই তরুণ।
আরও পড়ুন: ‘অনুশীলন’ ছাড়াই আইপিএলে প্রিয়াংশের ৯ ছক্কায় ৩৭ বলে ৯৩!
ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে ইমপ্যাক্ট বড়
অভিষেক শর্মা এমন একজন ব্যাটার, যার কাছে ব্যক্তিগত হাফ সেঞ্চুরি বা সেঞ্চুরির চেয়ে বড় হলো ম্যাচকে কত দ্রুত প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনা যায়। তিনি কেবল বোলারদের মারেন না, তিনি বোলারদের আত্মবিশ্বাস গুঁড়িয়ে দেন। মুখে শান্ত ও লাজুক হাসি থাকলেও মাঠের ভেতর তিনি এক রুদ্রমূর্তি।
আইপিএলের এই নতুন টেমপ্লেটে অভিষেক শর্মা এখন বোলারদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক। গেইলের শক্তি, শেবাগের সরলতা আর ওয়ার্নারের সাহসের এই মিশেলই তাঁকে বর্তমান সময়ের ওয়ান অফ এ কাইন্ড খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
আরও পড়ুন: আইপিএল নয়, তাহলে কোনটি সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টি–টোয়েন্টি লিগ?

