শুটিং রেঞ্জে অনুশীলনেরত জাতীয় শুটার কামরুন নাহার কলি।শুটার কামরুন নাহার কলি। ফাইল ছবি

অবশেষে ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘ আলোচনা ও সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় দলের শুটার কামরুন নাহার কলির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন। তবে এই প্রত্যাবর্তন খুব একটা মসৃণ হচ্ছে না। বহিষ্কারাদেশ তুলে নিলেও কলির ওপর আরোপ করা হয়েছে একগাদা কঠোর বিধি-নিষেধ। ফেডারেশনের দেওয়া শর্ত ও নির্দেশনা অনুসরণের লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েই আবার ক্যাম্পে ফিরতে হচ্ছে এই শুটারকে।

প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশে শাস্তি প্রত্যাহার

গতকালের জরুরি সভায় কলির শাস্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় শুটিং ফেডারেশন। আজ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

মজার ব্যাপার হলো, চিঠিতে কলির আবেদন ও শাস্তির বিষয়টি বিবেচনার পেছনে বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সুপারিশের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের কোনো সর্বোচ্চ অভিভাবকের নাম এভাবে চিঠিতে উল্লেখ করাকে অনেকেই নজিরবিহীন বলে মনে করছেন। মূলত প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহ ও ক্রীড়াঙ্গনের সমালোচনার মুখেই নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে ফেডারেশন।

বিধিনিষেধের বেড়াজালে কলি

কলির জন্য ফেডারেশন যে নতুন আচরণবিধি তৈরি করেছে, তাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রচারমাধ্যমের ওপর। ফেডারেশনের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না।

এমনকি ফেসবুকসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত বা কোনো খেলোয়াড়-কোচকে নিয়ে কোনো প্রকার পোস্ট বা মন্তব্য করা যাবে না। ক্যাম্পের শৃঙ্খলা ও কোচের নির্দেশাবলি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার শর্তও দেওয়া হয়েছে।

৩ মাসের পর্যবেক্ষণ ও সরাসরি বহিষ্কারের হুমকি

ফেডারেশনের চিঠিতে এক ধরনের ‘প্রচ্ছন্ন হুমকি’ দিয়ে রাখা হয়েছে। কলিকে আগামী তিন মাস নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে ছোটখাটো কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ হলেও তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হতে পারে।

এমনকি পর্যবেক্ষণের সময় পার হওয়ার পরও যদি কলি ফেডারেশনের শর্ত ভঙ্গ করেন, তবে কোনো প্রকার ‘শোকজ’ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাঁর বহিষ্কারাদেশ পুনরায় কার্যকর করা হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।

কলির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন কলি শুটিং ক্যাম্পে মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। ফেডারেশনের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদ তাঁর সাথে অসদাচরণ করেছেন বলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এনএসসির তদন্ত কমিটি সাজ্জাদকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরিয়ে দেয়।

কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, এনএসসি সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও ফেডারেশন উল্টো অভিযোগকারী কলিকেই বহিষ্কার করে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল ফেডারেশনের এক ধরনের ‘প্রতিহিংসামূলক’ আচরণ।

আরও পড়ুন: লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ রবিউল, দিল্লির শুটিং রেঞ্জে স্বপ্নভঙ্গ

আগামীর প্রভাব

কলি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) বৃত্তির আওতাভুক্ত একজন শুটার। তাঁর মতো একজন উদীয়মান খেলোয়াড়কে এভাবে শর্তের জালে আটকে রাখা তাঁর মানসিক বিকাশে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুটিং একটি একাগ্রতার খেলা, সেখানে এমন ‘তলব’ আর ‘হুমকি’র পরিবেশে কলি কতটা স্বাভাবিক পারফরম্যান্স করতে পারবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।