ক্রিকেট মাঠে হ্যাটট্রিক দেখাই যেখানে ভাগ্যের ব্যাপার, সেখানে টানা ছয় বলে ছয়টি উইকেট নেওয়াটা কল্পনাতীত। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ স্টাফোর্ডশায়ার কাউন্টি লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশনে পেনক্রিজের হয়ে খেলার সময় ঠিক এই অসম্ভাব্য কাজটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন পেসার মাইলস ডেভিস। পেলসালের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর এই ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ এখন ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
যেভাবে এলো সেই জাদুকরী ওভার
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে পেনক্রিজ ১৬৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নামা পেলসাল ৮ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৪৯ রান তুলে মোটামুটি অবস্থানে ছিল। মাইলস ডেভিস তাঁর আগের ওভারের শেষ দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে আগেই হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন।
নবম ওভার শুরু করার আগে সতীর্থরা তাদের মোবাইল ফোন বের করেছিলেন সেই সম্ভাব্য হ্যাটট্রিক মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করতে।
ডেভিস হতাশ করেননি। ওভারের প্রথম বলেই উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। কিন্তু বিস্ময়ের তখনও বাকি ছিল। পরের তিনটি বলে যথাক্রমে ব্যাটারদের বোল্ড করে সাজঘরে পাঠিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে টানা ছয় বলে ছয় উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি। এক পর্যায়ে পেলসালের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৪৯ থেকে ৯ উইকেটে ৪৯ রান!
পরিসংখ্যান ও বিশ্বরেকর্ড
মাইলস ডেভিস শেষ পর্যন্ত ৬ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ৭টি উইকেট শিকার করেন। তাঁর এই বিধ্বংসী স্পেলের সুবাদে পেনক্রিজ ১১৬ রানের বিশাল জয় পায়।
ক্লাবের চেয়ারম্যান জন প্রাইস গর্বের সাথে জানান, “আমাদের জানামতে ক্রিকেট ইতিহাসে এটি মাত্র সপ্তম ঘটনা এবং যুক্তরাজ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হিসেবে মাইলস এটি প্রথমবার করে দেখিয়েছেন। মাইলস আমাদের ক্লাবেরই একাডেমি থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়।”
সহকর্মীর অবদান ও ডেভিসের প্রতিক্রিয়া
পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান মাইলস ডেভিসের এই ম্যাচটি খেলারই কথা ছিল না। তাঁর এক সহকর্মী তাঁর কাজ কাভার করে দিতে রাজি হয়েছিলেন বলেই তিনি মাঠে নামতে পেরেছিলেন।
ম্যাচ শেষে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেভিস বলেন, “এটি এখনও আমার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। চতুর্থ উইকেটের পর আমি নিজেই ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছিলাম। আমার সহকর্মীকে বিশেষ ধন্যবাদ, সে ডিউটি করে না দিলে আমি আজ খেলতেই পারতাম না।”
গত মৌসুমেও দুটি হ্যাটট্রিক করা মাইলস ডেভিস মনে করেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়া এক অলৌকিক ব্যাপার। ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় মাইলস ডেভিসের এই নাম এখন চিরস্থায়ী হয়ে রইল।

