অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগ (BBL) এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। লিগটিকে আরও লাভজনক এবং বিশ্বমানের করতে এর বেসরকারিকরণ বা প্রাইভেটাইজেশনের পথে একধাপ এগিয়ে গেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (CA)। নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) এবং কুইন্সল্যান্ডের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও মেলবোর্ন রেনিগেডস, পার্থ স্কর্চার্স এবং হোবার্ট হারিকেনস-এর মালিকানা বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
এই নাটকীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে বোর্ড দেখতে চায় বিশ্ববাজারে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রকৃত আর্থিক মূল্য কত হতে পারে। আর এতে নজর আছে আইপিএল মালিকদের।
কেন বেসরকারিকরণের পথে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া?
বিগ ব্যাশকে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ (SA20) বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি২০ (ILT20) এর মতো প্রতিযোগিতামূলক রাখতে হলে ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানো জরুরি।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, বেসরকারিকরণ এখন সময়ের দাবি এবং এটি ‘অপরিহার্য’। যদিও সিএ-র প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল একযোগে আটটি ক্লাবই বিক্রির তালিকায় তোলা, কিন্তু রাজ্য দলগুলোর ভিন্নমতের কারণে এখন ধাপে ধাপে এগোচ্ছে তারা।
ভিক্টোরিয়া (মেলবোর্ন স্টার্স ও রেনিগেডস), ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (পার্থ স্কর্চার্স) এবং তাসমানিয়া (হোবার্ট হারিকেনস) তাদের ক্লাবের নির্দিষ্ট অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করতে আগ্রহী। প্রাথমিকভাবে দলগুলোর ৪৯% থেকে ৭৫% পর্যন্ত মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিগ ব্যাশে রিশাদ: আক্ষেপ থাকলেও রেকর্ডে উজ্জ্বল নাম
আইপিএল মালিকদের নজর ও সম্ভাব্য বাজারমূল্য
ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টের আদলে এই বিক্রয় প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিটি দলের বাজারমূল্য ৮০ থেকে ১৮০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে মেলবোর্ন রেনিগেডসের শতভাগ মালিকানা বিক্রির আলোচনা চলছে, যেখানে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
সান রাইজার্স হায়দ্রাবাদ বা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মতো বড় গ্রুপগুলো যদি বিগ ব্যাশে বিনিয়োগ করে, তবে লিগের চেহারা বদলে যেতে পারে। লন্ডনের ট্রেন্ট রকেটস বা বার্মিংহাম ফিনিক্সের মতো ক্লাবগুলো যেভাবে হান্ড্রেডে বিনিয়োগ পেয়েছে, সিএ-ও সেই পথেই হাঁটছে।
বিবাদের কেন্দ্রে নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ড
সবগুলো রাজ্য কিন্তু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই পরিকল্পনার সাথে একমত নয়। নিউ সাউথ ওয়েলস এবং কুইন্সল্যান্ড ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
এনএসডব্লিউ-র মতে, বাইরের বিনিয়োগ না নিয়ে ঘরোয়াভাবেই বিপিএলকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব। তারা আশঙ্কা করছে, আইপিএল মালিকরা আসলে ক্রিকেটের নীতিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এছাড়া বেটিং বা জুয়া কোম্পানিগুলোর স্পনসরশিপের ওপর নির্ভরতা কমানোর দাবিও তুলেছে তারা।
অন্যদিকে, কুইন্সল্যান্ড মনে করে ক্রিকেটারদের বেতন এই মুহূর্তে বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন:
বিগ ব্যাশে তোলপাড়, ৩২ রানের ওভার ও স্মিথের সেঞ্চুরির ডার্বি
পরবর্তী ধাপ কী?
বাজার যাচাইয়ের মাধ্যমে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এখন সম্ভাব্য ক্রেতাদের তালিকা তৈরি করবে। ভিক্টোরিয়া, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া এবং তাসমানিয়া যদি বিনিয়োগকারীদের শর্তে সন্তুষ্ট হয়, তবেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নিলাম প্রক্রিয়া। যারা শুরুতে এই প্রক্রিয়ায় যোগ দিচ্ছে না, যেমন সাউথ অস্ট্রেলিয়া (অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স), তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ক্রিকেটবোদ্ধারা মনে করছেন, এই বেসরকারিকরণ সফল হলে বিগ ব্যাশ শুধু অস্ট্রেলিয়ার নয়, আইপিএলের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা টি-টোয়েন্টি লিগ হিসেবে নিজের জায়গা পোক্ত করতে পারবে।

