পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে নাজমুল হোসেন শান্তর উচ্ছ্বাস।সেঞ্চুরির পর লাফিয়ে ওঠে উদযাপন করেন শান্ত।

ইনিংসের বয়স তখন মাত্র ১০ বল। ক্রিজের একটু বাইরে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ আব্বাসের সুইং অকার্যকর করার ছক কষছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আব্বাসের একটি ফুল লেংথ ডেলিভারিতে এক ধাপ এগিয়ে এসে খেললেন সেই সিগনেচার ‘অন ড্রাইভ’। ফিল্ডারকে কোনো সুযোগ না দিয়ে বল সীমানার বাইরে। কিছুক্ষণ পর শাহিন শাহ আফ্রিদিকেও একই ঢঙে চার।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা তখনই আভাস পেয়েছিলেন—আজ বড় কিছু হতে যাচ্ছে। শুরুর সেই নান্দনিক ইঙ্গিতকে পূর্ণতা দিয়ে দারুণ এক সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে জবাব দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

মুশফিক-মুমিনুলকে ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায়

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিনেই ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৩০ বলে ১০১ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিয়েছেন শান্ত। এই সেঞ্চুরির পথেই তিনি গড়েছেন এক অনন্য ইতিহাস।

বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক নাজমুল হোসেন শান্ত। নেতৃত্বের মাত্র ৩০ ইনিংসে এটি তাঁর পঞ্চম সেঞ্চুরি।

তিনি ছাড়িয়ে গেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে (৬১ ইনিংসে ৪টি) এবং পেছনে ফেলেছেন মুমিনুল হককেও (৩১ ইনিংসে ৩টি)।

আরও পড়ুন:
শান্ত-সৌম্যদের সঙ্গে বুলবুলের কী কথা!

বিশ্বমানের ইনিংসের বিজ্ঞাপন

শান্ত’র এই ইনিংসটি শুধু রেকর্ডের জন্যই নয়, বরং ক্রিকেটীয় সৌন্দর্যের বিচারেও ছিল বিশ্বমানের। সবুজাভ উইকেটে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে যখন ধুঁকছিল বাংলাদেশ, তখন উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন অধিনায়ক।

পাকিস্তানি পেসারদের সামনে যেখানে অন্য ব্যাটাররা হাঁসফাঁস করছিলেন, সেখানে শান্তর ব্যাটিং ছিল নির্ভরতা ও কর্তৃত্বের মিশেল।

পেসারদের লেংথ এলোমেলো করে দিতে খেলেন দারুণ সব ড্রাইভ, কাট ও পুল শট। স্পিনার সালমান আলি আগা আক্রমণে এলে চড়াও হন তাঁর ওপরও। ৭১ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।

দিনের সেরা শটটি আসে যখন তিনি ৮৯ রানে দাঁড়িয়ে। আব্বাসের ফুল লেংথ বলকে লং অন দিয়ে লফটেড শটে ছক্কায় উড়িয়ে ৯৫-এ পৌঁছান তিনি। এর কিছু পরেই ১২৯ বলে দৃষ্টিনন্দন কাভার ড্রাইভে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট শতরান।

মুমিনুলের সাথে রেকর্ড জুটি

সেঞ্চুরির মাইলফলক ছুঁয়ে শান্তর চিরচেনা উদযাপন দেখা যায়—বাতাসে লাফিয়ে ওঠা, ব্যাট উঁচিয়ে চুম্বন এবং স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা। ক্রিজের অন্য প্রান্তে থাকা সঙ্গী মুমিনুল হক তাঁকে অভিনন্দন জানান।

ততক্ষণে এই দুজনের তৃতীয় উইকেট জুটিতে উঠে গেছে ১৭০ রান, যা পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড জুটি। ২০২১ সালে লঙ্কানদের বিপক্ষে করা ২৪২ রানের রেকর্ড জুটিরও এই দুজনই কারিগর ছিলেন।

আক্ষেপের বিদায়

সেঞ্চুরির পরের বলেই আব্বাসের ইন-সুইং ডেলিভারিতে ব্যাট নামাতে সামান্য দেরি করে এলবিডব্লিউর শিকার হন শান্ত। ১০১ রানেই থামতে হয় তাঁকে। টেস্ট শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বড় ইনিংস খেলার যে ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন, তা পূরণ করার হাতছানি ছিল আরও বড় কিছুর।

তবে যেটুকু খেলেছেন, তা পাকিস্তানের পেস আক্রমণের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানশিপের এক উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন:
শান্তর সেঞ্চুরি, মোস্তাফিজের ফাইফার: ৫৫ রানের জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের