৯১ রানের ইনিংস খেলার পথে মুমিনুল হকের একটি দারুণ শট।দারুণ ব্যাটিংয়ে ৯১ রান করেন মুমিনুল হক।

সেঞ্চুরি পেলে ভালো, কিন্তু সেঞ্চুরি করতেই হবে—এমন কোনো কঠোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে কখনোই মাঠে নামেন না মুমিনুল হক। আজ মিরপুরে নোমান আলীর নিচু হয়ে আসা বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যখন ফিরছিলেন, তখনও তাঁর চোখেমুখে খুব একটা আক্ষেপ দেখা যায়নি। তবে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল যা শোনালেন, তাতে হাসির রোল পড়ে গেল পুরো কক্ষে। ৯১ রানে আউট হওয়ায় তাঁর মনে নাকি কাজ করছে ‘বউয়ের ভয়’!

কেন এই ‘বউয়ের ভয়’?

টেস্টে গত চার ইনিংসে মুমিনুলের স্কোরগুলো এমন—৮২, ৬৩, ৮৭ এবং আজ ৯১। প্রতিবারই ষাটোর্ধ্ব রান করেও তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে যখন প্রশ্ন তোলা হলো—কোথায় যেন আটকে যাচ্ছেন মুমিনুল?

জবাবে ১৩ টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক কিছুটা রসিকতা মিশিয়ে বললেন, “এত দিন আটকে গেছে মনে হয় নাই, আজকে হালকা মনে হয়েছিল। একটু, তা–ও বউয়ের কারণে। বউ হয়তো একটু গালি দিবে, এটাই।”

উপস্থিত সাংবাদিকদের হাসি থামার আগেই অবশ্য মুমিনুল আবার সিরিয়াস হয়ে যোগ করেন, “দুই-তিন মিনিট একটু খারাপ লাগছিল। তবে আমার কাছে সেঞ্চুরির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রান করা, দলে অবদান রাখাটাই আসল।”

আরও পড়ুন:
শান্তর রেকর্ড, মুমিনুলের আক্ষেপ: প্রথম দিনে ৩০০ ছাড়িয়ে বাংলাদেশ

টেস্ট স্পেশালিস্টের অনুপ্রেরণা

২০১৮ সালের পর থেকে মুমিনুলের পরিচয় শুধুই ‘টেস্ট ক্রিকেটার’। সাদা বলের ক্রিকেটে তিনি ব্রাত্য। ফলে একটি টেস্ট সিরিজের জন্য তাঁকে দীর্ঘ সময় তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হয়। এই নিবেদন ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি তাঁর কাছে নিজের ‘মাইন্ডসেট’।

মুমিনুল বলেন, “খুব বেশি চিন্তাভাবনা করি না। কীভাবে রান করতে হয়, ওইটা মোটামুটি একটু জানা আছে তো; ওইভাবেই খেলার চেষ্টা করি। নিয়মিত রান করতে হবে, এটাই আমার মোটিভেশন।”

শান্ত ও নিজের ব্যাটিংয়ের পার্থক্য

অন্যপ্রান্তে নাজমুল হোসেন শান্ত যখন তাঁর ১৪টি ফিফটির ৯টিকেই সেঞ্চুরিতে রূপ দিচ্ছিলেন, তখন মুমিনুলের ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ না দিতে পারার আক্ষেপ বাড়ছিল। মুমিনুলের সেঞ্চুরি না পাওয়া ফিফটির সংখ্যা এখন ২৬।

এ প্রসঙ্গে তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ— “আমি কোনো সময় ১০০ করব এই চিন্তায় খেলি না। আমি চিন্তা করি আমাকে ৪-৫ সেশন ব্যাটিং করতে হবে। ওই জায়গাটাতে হয়তো আরেকটু মনোযোগ দিয়ে শক্ত থাকতে হবে।”

আরও পড়ুন:
রেকর্ডের রাজসিক মুকুটে ‘অধিনায়ক’ শান্ত

লক্ষ্য যখন ৪৫০

প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ৩০১ রান তোলা বাংলাদেশ এখন ৪০০ থেকে ৪৫০ রানের বিশাল সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছে। তবে দ্বিতীয় দিনের সকালটা নিয়ে সতর্ক মুমিনুল। তিনি মনে করেন, প্রথম এক ঘণ্টা উইকেট না হারিয়ে কাটাতে পারলে পাকিস্তান পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়বে।

এছাড়া প্রতিপক্ষের টস জিতে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও মুমিনুল পরিষ্কার জানিয়েছেন, “আমরা টস জিতলে ব্যাটিংই নিতাম।”