অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট অঙ্গনে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) থেকে দেওয়া প্রাথমিক কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি দেশটির অন্তত পাঁচজন সিনিয়র ক্রিকেটার। চুক্তির প্রস্তাব পাওয়ার কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও তারা এখন পর্যন্ত স্বাক্ষর করেননি।
মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আকাশচুম্বী অর্থ আর বোর্ডের প্রস্তাবিত বেতনের মধ্যে বিশাল ব্যবধানই এই অসন্তোষের মূল কারণ।
কেন ক্ষুব্ধ অজি তারকারা?
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবার কৌশলগতভাবে মাত্র ২১ জন খেলোয়াড়কে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট বাজেটের অর্থ কম খেলোয়াড়ের মধ্যে বেশি করে বণ্টন করা যায়।
তবে ক্রিকেটারদের আপত্তির জায়গা অন্যখানে। আগামী মৌসুমে অস্ট্রেলিয়াকে রেকর্ড ১৭টি (সম্ভবত ১৮টিও হতে পারে) টেস্ট খেলতে হবে।
অতিরিক্ত এই ধকলের বিপরীতে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নিজেদের আটকে রাখলে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আয়ের সুযোগ হারাবেন তারা।
ইতিমধ্যেই প্যাট কামিন্সকে বছরে ৪ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের (৩ বছরের জন্য) প্রস্তাব দেওয়া হলেও বাকিদের ক্ষেত্রে অঙ্কটা আশাব্যঞ্জক নয়।
বিশেষ করে সাদা বলের স্পেশালিস্টরা মনে করছেন, বোর্ডের চুক্তিতে না থেকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে খেললে তারা অনেক বেশি আয় করতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়া ৪৮ বছর পর ভারতে খেলবে ৫ টেস্টের সিরিজ
বিবিএল বনাম বিদেশি লিগ: বেতন বৈষম্য
বিগ ব্যাশ লিগের (BBL) অজি তারকাদের মধ্যেও ক্ষোভ তুঙ্গে। গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, লিগের বিদেশি খেলোয়াড়রা (যেমন মোহাম্মদ রিজওয়ান বা লুক উড) ড্রাফটের মাধ্যমে ৪ লাখ ২০ হাজার ডলার পাচ্ছেন।
অথচ তাদের চেয়ে ভালো রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় অজি তারকারা পাচ্ছেন মাত্র ২ থেকে ৩ লাখ ডলার।
এই ১ থেকে ২ লাখ ডলারের ব্যবধান ঘুচানোর জন্য বিবিএল বেসরকারিকরণের প্রস্তাব এলেও তা বর্তমানে ঝুলে আছে।
বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, ক্ষুব্ধ ১২ জন বিবিএল তারকা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি২০ (ILT20) থেকে অনেককে ৫ লাখ ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ (SA20) লিগে অ্যাইডেন মার্করামদের মতো তারকারা ১.৩ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে অজি তারকারা দেশের লিগ ছেড়ে নিয়মিত বিদেশে বিভিন্ন লিগে খেলার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজি বনাম জাতীয় দল: কামিন্সের উদ্বেগ
জাতীয় দলের হয়ে খেলা আর ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের অর্থের টানাপোড়েন নিয়ে খোদ অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
উদাহরণস্বরূপ, আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবেন কামিন্স। এজন্য তিনি ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ লিগ খেলতে পারবেন না।
ফলে তাঁকে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার আয়ের সুযোগ ত্যাগ করতে হচ্ছে। এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি সিনিয়র খেলোয়াড়দের চুক্তিতে সই করার ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলছে।
সামনে বড় সংকট
২০২৬-২৭ চক্রের খেলা শুরু হবে আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে হোম টেস্ট সিরিজ দিয়ে। তার আগে এই চুক্তি জটিলতা নিরসন করা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সিনিয়র খেলোয়াড়রা চুক্তিতে সই না করলে অস্ট্রেলিয়া দলের শক্তি যেমন কমবে, তেমনি বিশ্ব ক্রিকেটে ফ্রিল্যান্সিং খেলোয়াড়ের সংখ্যাও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন:
১৫ বছর পর আসছে অস্ট্রেলিয়া: ওয়ানডে মিরপুরে, টি-টোয়েন্টি চট্টগ্রামে

