পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই যেন লিটন কুমার দাসের চেনা ছন্দে ফেরা। আত্মবিশ্বাসটা আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ২২ গজে ব্যাট হাতেই প্রমাণ করলেন এই স্টাইলিশ ব্যাটার। সিলেটের সবুজ উইকেটে প্রথম সেশনেই যখন ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ, তখন বুক চিতিয়ে লড়াই করলেন তিনি। লিটনের দুর্দান্ত ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরির ওপর ভর করেই প্রথম ইনিংসে আড়াইশ পার করে ২৭৮ রান তোলে স্বাগতিকেরা।
শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান তুলে দিনশেষে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধায় রয়েছে সফরকারী পাকিস্তান।
১১৬ রানে ৬ উইকেট: টপ অর্ডারের চআত্মসমর্পণ
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই খাতা খোলার আগে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দিতে অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম ২৬ ও সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক ২২ রান করে ভালো শুরুর আভাস দিলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৪৪ রানে তানজিদ ও ৬৩ রানে মুমিনুল বোল্ড হলে চাপে পড়ে দল।
এরপর উইকেটে থিতু হয়েও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ রান করে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ফর্মে থাকা মুশফিকুর রহিমও আজ ভরসা জোগাতে পারেননি, ৬৪ বলে ২৩ রান করে খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি।
সাতে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজ মাত্র ৪ রানে ব্যর্থ হলে ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে চরম লজ্জার মুখে পড়ে বাংলাদেশ।
লিটনের ‘স্পেশাল’ সেঞ্চুরি
দলের এমন কঠিনতম বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ান লিটন দাস। টেল-এন্ডারদের নিয়ে শুরু হয় তাঁর একক প্রতিরোধ। সপ্তম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দলের স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। তাইজুল মাত্র ১৬ রান করলেও লিটনকে সঙ্গ দিতে খেলেন ৪০টি মূল্যবান বল। তাইজুলের বিদায়ের পর তাসকিন আহমেদ (৭) দ্রুত ফিরলেও লিটন তাঁর স্বভাবসুলভ নান্দনিক ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩৫ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট শতরান।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি লিটনের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১২৬ রান করে আউট হন এই ক্লাসিক ব্যাটার। শরিফুল ইসলামের অপরাজিত ১২ রানের ওপর ভর করে ৭৭ ওভারে ২৭৮ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।
পাকিস্তানের পক্ষে পেসার খুররম শাহজাদ ৮১ রানে ৪টি এবং মোহাম্মদ আব্বাস ৪৫ রানে ৩টি উইকেট নেন।
শেষ বিকেলে নিরাপদ পাকিস্তান
তৃতীয় সেশনের শেষ ঘণ্টায় নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। দিনের বাকি থাকা মাত্র ৬ ওভারের আলোতে টাইটান পেসারদের সাবধানে সামলেছেন পাকিস্তানি দুই ওপেনার আবদুল্লাহ ফাজাল ও আজান আওয়াইস। তাসকিন, শরিফুল, মিরাজ ও নাহিদ রানাকে দিয়ে আক্রমণে গিয়েও এই জুটি ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ।
প্রথম দিনশেষে বিনা উইকেটে ২১ রান তুলেছে পাকিস্তান। আজান ১৩ এবং ফাজাল ৮ রানে অপরাজিত আছেন। ১০ উইকেট অক্ষত রেখে স্বাগতিকদের চেয়ে এখনও ২৫৭ রানে পিছিয়ে আছে পাকিস্তান। তবে সিলেটের উইকেটের আচরণ বিবেচনায় আগামীকাল সকালে দ্রুত ব্রেক-থ্রু মেলাতে না পারলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে পারে বাংলাদেশ।

