সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে দাপট দেখাল বাংলাদেশের বোলাররা। মাঝে বাবর আজমের ফিফটি ছাড়া পুরোটা সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বাগতিকদের হাতে। ফলে বড় লিডের প্রত্যাশা ছিল স্বাভাবিক। তবে শেষদিকে সাজিদ খানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস থামে ২৩২ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
রোববার বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে দিন শুরু করে পাকিস্তান। তবে দিনের শুরুতেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদ আবদুল্লাহ ফজলকে ফেরান। ৯ রান করা এই ওপেনারের ক্যাচ বামে ঝাঁপিয়ে লুফে নেন লিটন দাস। এক ওভার পর তাসকিন আবারও আঘাত হানেন। এবার তার শিকার ঢাকা টেস্টে সেঞ্চুরি করা আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস। শর্ট লেগে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে তিনি ১৩ রান করেন।
মিরাজের স্পিন এবং বাবরের প্রতিরোধ
২৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়েন বাবর আজম ও শান মাসুদ। তবে এই জুটি ৩৮ রানের বেশি হতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। কাভার দিয়ে শট খেলতে গিয়ে বদলি ফিল্ডার নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ দেন মাসুদ (২১)। ক্রিজে এসে থিতু হতে পারেননি সৌদ শাকিলও। ৮ রান করা এই ব্যাটার চাপ কাটাতে সুইপ করতে যান। কিন্তু বল ব্যাটের কানায় লেগে ওপরে উঠলে লিটন অনায়াসে তা গ্লাভসবন্দী করেন।
সেখান থেকে পঞ্চম উইকেটে ৬৩ রান যোগ করেন বাবর আজম ও সালমান আগা। বাবর খেলছিলেন বেশ সাবলীলভাবে। তবে ৬৮ রান করা বাবরকে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানিয়ে এই জুটি ভাঙেন পেসার নাহিদ রানা। ৮৪ বলের ইনিংসে বাবর ১০টি চার মারেন।
রানা-তাইজুলের আঘাত ও সাজিদের ক্যামিও
নিয়মিত বিরতিতে পাকিস্তান সালমান (২১), মোহাম্মদ রিজওয়ান (১৩) এবং হাসান আলিদের (১৮) উইকেট হারায়। চা-বিরতির পর দ্রুতই বাকি উইকেটগুলো তুলে নেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের ইনিংসের শেষ দিকে সাজিদ খান একাই লড়াই করেন। তাইজুল ইসলামের এক ওভারে টানা তিন ছক্কা মেরে ব্যবধান কিছুটা কমান সাজিদ। তবে সাজিদকে ফিরিয়েই পাকিস্তানের ইনিংসের ইতি টানেন নাহিদ রানা। থার্ড ম্যানে তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে শেষ হয় সাজিদের ২৮ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও ইনিংস।
পাকিস্তানের ইনিংস শেষ পর্যন্ত ৫৭.৪ ওভারে ২৩২ রানে গুটিয়ে যায়। বাংলাদেশের পক্ষে নাহিদ রানা ৬০ রানে এবং তাইজুল ইসলাম৬৭ রানে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

