একটি টেস্ট ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরতে ঠিক কী কী প্রয়োজন? ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে রান আর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং—সিলেট টেস্টে এই দুইয়ের দারুণ এক মেলবন্ধন ঘটিয়ে জয়ের সুবাস পাচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পাওয়া টাইগাররা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হয়েছে। ফলে টেস্টের তৃতীয় দিন (সোমবার) শেষেই পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪৩৭ রানের বিশাল পাহাড়। জয়ের জন্য দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এত রান তাড়া করে জেতার কোনো নজির নেই।
রেকর্ড বুকে চোখ রাখলে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ফলে বাকি দুই দিনে অবিশ্বাস্য কিছু না ঘটলে সিলেটের মাটিতে মুশি-লিটনদের জয় এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার।
মুশফিকের রেকর্ড সেঞ্চুরি ও শান্ত-লিটনের প্রতিরোধ
আজ সকালে ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে নতুন দিনে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। মেঘলা আকাশ আর উইকেটের সুবিধা নিয়ে শুরুতেই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে (১৫) ফিরিয়ে ধাক্কা দিয়েছিল পাকিস্তানি পেসাররা। তবে সেই চাপ একাই সামাল দেন লিটন কুমার দাস ও মুশফিকুর রহিম।
প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দ্বিতীয় ইনিংসেও খেলছিলেন দারুণ ছন্দে। ৬৭ বলে ফিফটি ছোঁয়া এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৬৯ রানে হাসান আলীর শিকার হন। তবে মুশফিক অন্য প্রান্ত আগলে রেখে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন। শান মাসুদের উত্যক্ত করার কড়া জবাব দিয়ে ১৭৮ বলে ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। মুমিনুল হককে (১৩ সেঞ্চুরি) ছাড়িয়ে এখন টেস্টে দেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক মুশফিক।
শেষ পর্যন্ত সাজঘরে ফেরার আগে ২৩৭ বলে ১৩৭ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
তাইজুলের লড়াকু ব্যাটিং ও লক্ষ্য নির্ধারণ
মাঝপথে মেহেদী হাসান মিরাজ ১৯ রানে আউট হলেও লোয়ার অর্ডারে মুশফিককে দারুণ সঙ্গ দেন তাইজুল ইসলাম। পাকিস্তানের বোলারদের স্লেজিংয়ের জবাব ব্যাট দিয়ে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ২২ রান করেন তিনি।
প্রথম ইনিংসের মতো এবারও তাদের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৭৭ রানের মহামূল্যবান জুটি।
শেষদিকে দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম আউট হলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ৩৯০ রানে। পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শাহজাদ ৪টি ও সাজিদ খান ৩টি উইকেট নেন।
পাহাড়সম লক্ষ্য ও পাকিস্তানের অতীত ইতিহাস
পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৩৭৭ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে, যা তারা ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেছিল। তবে বর্তমান দলটির ফর্ম ও বিদেশের মাটিতে টানা ৬ ম্যাচ হারের রেকর্ড তাদের জন্য ৪৩৬ রান তোলা অলৌকিক কিছু।
বাংলাদেশের গতি তারকা নাহিদ রানা, তাসকিন, শরিফুলদের সুইং আর স্পিন বিভাগে তাইজুল-মিরাজদের সামলানো বাবর আজমদের জন্য অসম্ভব এক মিশন।
দিনের শেষ বিকেলে ২ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে কোনো রান তুলতে পারেনি পাকিস্তান, তবে কোনো উইকেটও হারায়নি। ম্যাচের বাকি আরও দুই দিন।
ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তাটুকু বাদ দিলে সিলেটের সবুজ পিচে পাকিস্তানকে এখন অলৌকিক কোনো ব্যাটিং বা কেবল বৃষ্টিই বাঁচাতে পারে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮/১০
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২/১০
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩৯০/১০ (১০২.২ ওভার)
(মুশফিক ১৩৭, লিটন ৬৯, তাইজুল ২২, মিরাজ ১৯, শান্ত ১৫; শাহজাদ ৪/৮৬, সাজিদ ৩/১২৬, হাসান ২/৮৩)
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ০/০ (২ ওভার, লক্ষ্য ৪৩৭ রান)।

