Litton Das talking from behind the stumps during Pakistan innings.মোহাম্মদ রিজওয়ান ও লিটন দাসের তর্ক ম্যাচে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করে।

মাঠের ক্রিকেটীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি টেস্টের চিরাচরিত স্লেজিং ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ জমিয়ে তুলেছে সিলেট টেস্টকে। এর আগে মিরপুর টেস্টে উইকেটের পেছন থেকে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে উদ্দেশ্য করে লিটন দাসের একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আজ সিলেটের মাঠেও দেখা গেল তেমনই এক ঘটনার পুনরাবৃত্তি। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে অনবরত কথা বলে রিজওয়ানের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছিলেন লিটন। একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে লিটনের সঙ্গে প্রকাশ্য তর্কযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন এই পাকিস্তানি ব্যাটার, যা থামাতে শেষ পর্যন্ত মাঠের আম্পায়ারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

লিটনের স্লেজিং ও মাঠের উত্তেজনা

চতুর্থ দিনে চা পানের বিরতির আগেই ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল পাকিস্তান।

দ্রুত ম্যাচ জয়ের সুবাস পেতে থাকা বাংলাদেশের সামনে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ান মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা। টাইগার বোলাররা যখন কিছুতেই এই জুটি ভাঙতে পারছিলেন না, তখনই উইকেটের পেছন থেকে রিজওয়ানের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটানোর কৌশল নেন লিটন।

ইনিংসের ৭২তম ওভারের চতুর্থ বলের পর লিটনের স্লেজিংয়ের জবাব দিতে যান রিজওয়ান। দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি চরম রূপ নেওয়ার আগেই মাঝখানে এসে দাঁড়ান অন-ফিল্ড আম্পায়ার আলাহউদ্দিন পালেক।

এ সময় আম্পায়ারকে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করতে দেখা যায় পাকিস্তানি ব্যাটারকে। অবশ্য আম্পায়ারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুতই শান্ত হয়।

আরও পড়ুন:
মুশফিক-তাইজুলের সঙ্গে পাকিস্তানিদের কেন ঝামেলা হল

রেকর্ডের হাতছানি ও চতুর্থ দিনের লড়াই

৪৩৭ রানের বিশ্বরেকর্ড তাড়া করতে নেমে আজ শূন্য হাতেই চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে পাকিস্তান।

তবে দিনের শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজের জোড়া আঘাতে ধাক্কা খায় সফরকারীরা। আব্দুল্লাহ ফজলকে (৬) নাহিদ রানার ক্যাচে পরিণত করার পর আজান আওয়াইসকে (২১) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। তৃতীয় উইকেটে বাবর আজম (৪৭) ও অধিনায়ক শান মাসুদ (৭১) ৯২ রান যোগ করে প্রতিরোধ গড়লেও তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানার বোলিং তোপে ১৬২ রানেই অর্ধেক ব্যাটার হারায় পাকিস্তান।

সেখান থেকে ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৪ রানের বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচটি পঞ্চম দিনে নিয়ে যান রিজওয়ান ও সালমান। দিনশেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান।

জয়ের জন্য সফরকারীদের এখনো প্রয়োজন ১২১ রান, আর ঐতিহাসিক ধবলধোলাই নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের দরকার শেষ ৩ উইকেট।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়েছিল। পাকিস্তান যদি সিলেটের এই লক্ষ্য তাড়া করতে পারে, তবে তা হবে ২৩ বছর পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন এক বিশ্ব ইতিহাস।