হয়ে হয়ে করেও হলো না। দিনের শেষ দুই বল যখন বাকি, তখন মুশফিকুর রহিমেরও প্রয়োজন দুই রান, সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে। ওভারের পঞ্চম বলটাতে দারুণ টাইমিংয়ে নিজের প্রিয় সুইপ শট খেললেন তিনি। মনে হচ্ছিল বল যাচ্ছে বাউন্ডারির দিকে। গ্যালারিতে তখন উল্লাস। তবে স্কয়ার লেগে থাকা ফিল্ডার থামিয়ে দিলেন বল। রান হলো একটাই!
এবং আর মাত্র একটি রানের জন্য আজ আর সেঞ্চুরি হলো না শততম টেস্ট খেলতে নামা মুশফিকের।
ওই ওভার শেষে আরেকটি ওভার চালানো যায় কিনা, এ নিয়ে আম্পায়াররা একটু আলোচনা করলেন। মনে হচ্ছিল, তারা বুঝি আরেক ওভার খেলা চালাবেন। কিন্তু না, বেলস তুলে নিলেন। শেষ হয়ে গেলে দিনের খেলা।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে মুশফিক ৯৯ রানে অপরাজিত। সঙ্গে ৪৭ রানে অপরাজিত লিটন দাস। দিনশেষে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে করেছে ২৯২ রান।
মুশফিক রাঙানো দিনে সবই হলো, বড় সংগ্রহের পথেও ছুটছে টাইগাররা। কিন্তু সেঞ্চুরিটা আজই না হওয়ায় অপেক্ষা তাই রয়ে গেল।
শততম টেস্ট ম্যাচ হওয়ায় দিনটি এমনিতেই অন্যরকম মুশফিকের জন্য। সকালে বিসিবি থেকে পেয়েছেন আনুষ্ঠানিক সম্মাননা। ক্রিকেট বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বয়ে এসেছে শুভেচ্ছাবার্তা। মাঠে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত। সবমিলিয়ে দারুণ কিছু করার মঞ্চ তো প্রস্তুতই ছিল তার জন্য!
সেই মঞ্চে দারুণ পারফর্ম করলেন মুশফিক। ইনিংসের শুরু থেকেই ছিলেন সতর্ক, বাড়তি কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি। সোজা ব্যাটে খেলেছেন শট। স্লগ সুইপ বা রিভার্স সুইপ, যা তার প্রিয়, সেগুলো তেমন খেলার চেষ্টাও করেননি। ১৮৭ বলের ইনিংসে বাউন্ডারি কেবল পাঁচটি।
সকালে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ভালো শুরু করেন সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়।
আইরিশদের একাদশে নেই কোনো বিশেষজ্ঞ পেসার। বোলিং শুরু করেন দুই অলরাউন্ডার জর্ডান নিল ও কাটির্স ক্যাম্ফার। কিন্তু তাদের বোলিংয়ে ভয় ধরানোর কিছুই ছিল না।
পরে অফ স্পিনার অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন ও ম্যাথু হামফ্রিজ এসে আঁটসাঁট বোলিং করতে থাকেন। ম্যাকব্রাইনের দারুণ ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন সাদমান (৩৫)। ৫২ রানে থামে ওপেনিং জুটি।
আইরিশ দুই স্পিনারের করা টানা ১০ ওভারে বাউন্ডারি পায়নি টাইগাররা। এতেই যেন ধৈর্যহীন হয়ে পড়েন জয়। ম্যাকব্রাইনকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তিনি (৩৪ রান) ধরা পড়েন মিড অফে।
শান্ত গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই ছিলেন। ম্যাকব্রাইনকে উড়িয়ে মারেন গ্যালারিতে। কিন্তু পরের বলেই ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে হয়ে যান বোল্ড।
৯৫ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। চাপ আরও বাড়তে পারতো, যদি মুমিনুল ও মুশফিক জীবন না পেতেন।
আরও পড়ুন: মুশফিক পেলেন সম্মাননা, জানালেন কৃতজ্ঞতা, দেবেন শতভাগ
ব্যক্তিগত ২২ রানে থাকা মুশফিকের ব্যাট ছুঁয়ে অভিষিক্ত লেগ স্পিনার গ্যাভিন হোয়ের বল যায় উইকেটকিপার লরকান টাকারের কাছে। তবে সেটি গ্লাভসে আটকে রাখতে পারেননি টাকার।
মুমিনুল জীবন পান ২৩ রানে। ম্যাকব্রাইনের বলে সুইপ শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি, তবে ধরতে পারেননি কারমাইকেল।
জীবন পাওয়া এ দুজনই গড়েন দারুণ জুটি। প্রথম টেস্টে ফিফটি করা মুমিনুল এই টেস্টে তুলে নেন ফিফটি। তবে এরপর বেশিদূর যেতে পারেননি। দলের রান যখন ২০২, তখন ১২৮ বলে ৬৩ রান করে স্পিনার ম্যাকব্রাইনকে সুইপ করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন। তার বিদায়ে ভাঙে মুমিনুল-মুশফিকের ২১৪ বলে ১০৭ রানের জুটি।
এরপর আর বিপদ হয়নি। লিটন যুক্ত হয়ে খেলতে থাকেন সাবলীল। এই ম্যাচ লিটনের ক্যারিয়ারের শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। ৪৭ রান করার পথে লিটন টেস্ট তিন হাজার রান পূর্ণ করেন। বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে এই সংখ্যা পূর্ণ করলেন তিনি।
আয়ারল্যান্ডের স্পিনার ম্যাকব্রাইন একাই নিয়েছে ৪ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর>>
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৯০ ওভারে ২৯২/৪ (জয় ৩৪, সাদমান ৩৫, মুমিনুল ৬৩, শান্ত ৮, মুশফিক ৯৯, লিটন ৪৭; নিল ৮-০-৩৭-০, ক্যাম্ফার ৮-০-২৮-০, ম্যাকব্রাইন ২৬-২-৮২-৪, হামফ্রিজ ২৬-০-৮৩-০, হোয়ে ১৯-১-৪৮-০, টেক্টর ৩-০-১০-০)।

