‘শনির দশা’ বুঝি একেই বলে!
এই বছর না সেই বছর, সেই বছর না পরের বছর এই যেন হয়ে গেছে ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলের অবস্থা।
চলতি বছর এই চ্যাম্পিয়নশিপ হওয়ার কথা ছিল; হয়নি নানা জটিলতায়। সময় ঠিক করা হয় আগামী বছর। কিন্তু আগামী বছরেও সাফ ফুটবলের লড়াই হবে কিনা, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
সাফের নির্বাহী সভা ছিল গতকাল। সেখানে সাফ ফুটবলের সচি নিয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু পরিষ্কার কোনোও সিদ্ধান্ত আসেনি।
সাফকে ঘিরে নানামুখী সংকট রয়েছে।
প্রথমত, আগে পরিকল্পনা ছিল সাফের লড়াই হবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে। কিন্তু এই পদ্ধতিতে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ নেই। আবার ভারত-পাকিস্তান ইস্যুও আছে।
দ্বিতীয়ত, সময় নির্ধারণ হয়নি এখনো। আগামী বছর জুন-জুলাইয়ে হবে ফিফা বিশ্বকাপ। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বকাপের পরে সাফ আয়োজন করতে হবে।
আরও পড়ুন: অনন্য রেকর্ড ডাকছে মেসি-রোনালদোকে
বিশ্বকাপ পরবর্তী ফিফা উইন্ডো ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর অবধি। এই সময়ে সাফ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে।
যেমনটি বলছিলেন সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম ক্যাটেল, ‘সাফের নির্বাহী সভায় আগামী বছরের সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে সাফ হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে আয়োজনের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে হলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মিলিয়ে ১৬ দিনের বড় ফিফা স্লট রয়েছে। আর যদি হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে হয়, তাহলে আগস্টে গ্রুপ পর্ব সেরে সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল হতে পারে।’
কিন্তু, সেপ্টেম্বরের ১৯ তারিখ থেকে শুরু হবে এশিয়ান গেমস; চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এশিয়ান গেমসে ফুটবলও রয়েছে। অনূর্ধ্ব-২৩ দল হলেও জাতীয় দলের তিন ফুটবলার সেখানে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া জাতীয় দলে খেলা অনূর্ধ্ব-২৩ বছর বয়সীরা তো খেলতে পারবেনই।
এশিয়ান গেমসের সময় তাহলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ কিভাবে হবে?
সাফের নির্বাহী কমিটি এখনও হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতির কথা বললেও, বাস্তবে এরকম না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, সাফের মার্কেটিং পার্টনার স্পোর্টস ফাইভ পৃষ্ঠপোষকতায় আগ্রহী নয়। তারা সরে যেতে চাচ্ছে। এখন নতুন স্পন্সর নিয়ে সাফ মূলত একটি দেশেই চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করতে চায়। এ নিয়ে গতকালের সভায় আলোচনাও হয়েছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বর্তমানে সাফের প্রধান। আগামী বছরের সাফ নিয়ে তিনি শোনালেন আশার কথাই, ‘এই বছর হয়নি, আগামী বছর করতেই হবে। বাস্তবিকভাবে বিশ্বকাপের আগে করা সম্ভব নয়। বিশ্বকাপের পর সুবিধাজনক সময় এটা করতে হবে। স্পন্সরের চেয়ে সময় মেলানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
সাফের নির্বাহী কমিটি ৯-১৭ নভেম্বর ফিফা উইন্ডোকেও বিবেচনায় রেখেছে। প্রয়োজনে বাড়তি দুই-তিন সময় নিয়ে হলেও আয়োজন করা যায় কিনা, সে আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে খানিকটা হলেও সম্ভাবনা আছে। তবে সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে আশা নেই!
যেমনটি বলছিলেন সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, ‘বাংলাদেশ, ভুটান ছাড়া অন্য দেশে ক্লাব লিগ হচ্ছে না। ওই দেশগুলোর লিগ না হলে ক্লাব টুর্নামেন্ট আয়োজন করা কঠিন।’
শুধু ঘরোয়া লিগের সংকটই নয়, স্পন্সর মেলানোও কঠিন। ফলে ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ অঙ্কুরেই হারিয়ে যেতে বসেছে।

