অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইন।অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ফাইল ছবি

মূল সুযোগ নিজেরাই নষ্ট করলো বাংলাদেশ। একের পর এক ভুল করলো আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন টিম। ১৯৪ রানের পাহাড় নিয়েও প্রথম সুযোগে ভারতকে আটকাতে পারেনি তারা। সমান রান করে ম্যাচ টাই করে ভারত। এরপর ফলাফল নির্ধারণে ম্যাচ গড়ালো সুপার ওভারে।

সেখানেও নানা নাটকীয়তা। শেষে ওয়াইডের কল্যাণে রুদ্ধশ্বাস এক জয় পেল টাইগাররা।

রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে ভারতকে সুপার ওভারে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

শেষের তাণ্ডবে বাংলাদেশ করেছিল ১৯৪ রান। ভারতও ঠিক এ রানে থামে। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কাতারের দোহায় মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ-ভারত। টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে টাইগাররা, হাবিবুর রহমান সোহান ও জিসান আলম ওপেনিং জুটিতে ৪.২ ওভারে তুলেন ৪৩ রান।

জিসান আউট হন ১৪ বলে ২৬ রান করে। এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে দল। এরমধ্যেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন সোহান। আউট হওয়ার আগে ৪৬ বলে ৬৫ রানে ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন তিনি।

আপনার জন্য: মাঠে ফেরার সময় আবার চোট, বাড়লো পালমারের অপেক্ষা

জাওয়াদ আবরার, আকবর আলী, আবু হায়দার রনি, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। ১৮ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৪৪ রান ছিল বাংলাদেশের।

সেখান থেকে দল পায় বড় স্কোর, যার পেছনে ছিলেন এসএম মেহেরব; কিছুটা সঙ্গ দেন ইয়াসির আলি রাব্বি। শেষ দুই ওভারে ঠিক ৫০ রান তুলেন তারা।

১৮ বলে একটি চার ও ছয়টি ছক্কায় ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেরব। ৯ বলে দুটি চার ও এক ছক্কায় ১৭ রানে অপরাজিত ছিলেন রাব্বি।

বাংলাদেশ ‘এ’ থামে ১৯৪ রানে।

লক্ষ্য তাড়ায় ওপেনিং জুটিতে ৫৩ রান তুলে ভারত। এরপর আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন বৈভব সূর্যবংশী (১৫ বলে ৩৮)। আরেক ওপেনার প্রিয়াংশ আরিয়া ২৩ বলে ৪৪ রান করে রাকিবুল হাসানের শিকারে পরিণত হন।

নামান ধীর ব্যর্থ হন। ভারত অধিনায়ক জিতেশ শর্মা ২৩ বলে ৩৩, নেহাল ওয়াধেরা ২৯ বলে ৩২, রামানদীপ সিং ১১ বলে ১৭ রান করেন।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন পড়ে ১৬ রান। প্রথম দুই বলে দুই রান দেন রাকিবুল। পরের দুই বলে বাউন্ডারি। শেষ দুই বলে লক্ষ্য মাত্র ৪ রান। এসময় দারুণ ব্রেকথ্রু এনে দেন রাকিবুল, বোল্ড করে দেন আশুতোষকে (৬ বলে ১৩)।

শেষ বলে প্রয়োজন ৪ রান। বাংলাদেশের দিকে হেলে পড়েছে ম্যাচ। কিন্তু নাটকীয়তা তো বাকি! হার্ষ দুবে লং অনে ঠেলেই ছুটলেন দুই রানের জন্য। থ্রো থেকে ছুটে আসা বল স্টাম্পে লাগাতে পারলেন না আকবর আলী। ফসকে গেল বল। সুযোগে তৃতীয় রান নিল ভারত। ম্যাচ হলো টাই!

এরপর সুপার ওভারের নাটকীয়তা।

রিপন মন্ডলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পরপর দুই বলে ভারত হারিয়ে বসে দুই উইকেট। বাংলাদেশের লক্ষ্য কেবল ১ রান। সহজ জয়ের সুযোগ।

কিন্তু কোথায় কী! অহেতুক ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে প্রথম বলেই ক্যাচ দেন ইয়াসির আলী রাব্বি।

তবে দ্বিতীয় বলেই এসে গেল জয়। ভারত স্পিনার সুয়াশ শর্মা ওয়াইড দেওয়ায় জয়ের বন্দরে নোঙর করে বাংলাদেশ।

দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন রিপন মন্ডল।