Yehvann Diouf Senegal Cricfoot24ম্যাচে এক মিনিট না খেলেও আলোচনায় ইয়েহভান দিয়ুফ। ছবি: গেটি ইমেজেস

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনাল মানেই উত্তেজনা। তবে মরক্কোর রাবাতে সেনেগাল–মরক্কো ফাইনালে উত্তেজনার মাত্রা ছাপিয়ে যায় বিশৃঙ্খলা, নাটক আর অদ্ভুত সব ঘটনার সীমা। পেনাল্টি বিতর্ক, মাঠ ছাড়ার নাটকের পাশাপাশি ম্যাচজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে একেবারে অপ্রত্যাশিত বিষয়—গোলকিপারের তোয়ালে।

প্রবল বৃষ্টির মধ্যে হওয়া ফাইনালে সেনেগালের প্রথম পছন্দের গোলকিপার এদুয়ার্দো মেন্দিকে বারবার গ্লাভস শুকাতে হচ্ছিল। আর সেই কাজের জন্য সাইডলাইনে রাখা তোয়ালেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের সবচেয়ে ‘সংবেদনশীল বস্তু’।

ম্যাচ চলাকালে দেখা যায়, মরক্কোর বলবয় ও কর্নার ফ্ল্যাগ বহনকারীরা বারবার সেই তোয়ালেটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই কৌশল তাঁরা আগের সেমিফাইনালেও ব্যবহার করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন সেনেগালের রিজার্ভ গোলকিপার ইয়েহভান দিয়ুফ। মাঠে এক মিনিটও না খেলেও, পুরো ১২০ মিনিটে তাঁর দায়িত্ব ছিল একটাই—মেন্দির তোয়ালে রক্ষা করা।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক পর্যায়ে তিনজন বলবয় তাঁকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন, টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যান। আবার কোথাও দিয়ুফকে দেখা যায় বলবয়দের হাত থেকে তোয়ালে বাঁচাতে দৌড়ে পালাতে।

আরেকটি ভিডিওতে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিকে বিজ্ঞাপন বোর্ডের ওপারে সেনেগালের একটি তোয়ালে ছুড়ে ফেলতেও দেখা যায়—যা পরিস্থিতিকে আরও বিতর্কিত করে তোলে।

দিয়ুফের ‘ফান’

ম্যাচ শেষে সেনেগাল শিরোপা জিতলেও, ইয়েহভান দিয়ুফের অবদান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলাদা আলোচনা। নিজেই সেই আলোচনায় রসিকতা যোগ করেন ২৬ বছর বয়সী গোলকিপার।

ইনস্টাগ্রামে বিজয়ীর পদক আর সেই বিখ্যাত তোয়ালের ছবি পোস্ট করে দিয়ুফ লেখেন—
“এই তো—পদক আর তোয়ালে।”
সঙ্গে ভালোবাসা আর হাসির ইমোজি।

এই পোস্ট মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মন্তব্য করেন, ম্যাচের সবচেয়ে অদ্ভুত কিন্তু কার্যকর ‘ডিফেন্ডার’ ছিলেন দিয়ুফই।

ফুটবলে ম্যাচ জেতার পেছনে গোল, সেভ বা কৌশল থাকে—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আফকন ফাইনাল দেখাল, কখনো কখনো একটি তোয়ালে আর সেটিকে আগলে রাখা একজন রিজার্ভ গোলকিপারও ইতিহাসের অংশ হয়ে যেতে পারেন।