বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবার খেলছে না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

১৯৯৯ সালের সেই উজ্জ্বল সকাল। কার্ডিফের গ্যালারি প্রকম্পিত করে বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম রানটি নিয়েছিলেন আকরাম খান। আজ ২৭ বছর পর, যখন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দামামা বাজছে, সেই আকরাম খানের কণ্ঠেই ঝরল একরাশ বিষণ্ণতা। দীর্ঘ ১৭টি বিশ্ব আসরে নিয়মিত মুখ থাকা বাংলাদেশ এবার নেই। অথচ মাঠের ব্যর্থতা নয়, বরং মাঠের বাইরের এক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতায় থমকে গেছে লাল-সবুজের বিশ্বকাপ যাত্রা।

আকরামের আক্ষেপ

১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে যে স্বপ্নের বীজ বুনেছিলেন আকরাম খান, তা আজ মহীরুহ হওয়ার কথা ছিল। অথচ কলম্বোয় আজ যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে, তখন সাবেক এই বিসিবি পরিচালককে থাকতে হচ্ছে দর্শকের সারিতে।

আকরাম খান আক্ষেপ করে বলছিলেন, “যারা বিশ্বকাপ খেলে, কেবল তারাই এর মূল্য বোঝে। আমাদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আজ আমরা নেই। অথচ আইসিসির প্রকাশিত ২০ দেশের অধিনায়কদের ছবিতে লিটন দাসের বদলে স্কটল্যান্ডের অধিনায়ককে দেখে বারবার মনে হচ্ছিল—ওই পতাকাটা তো আমাদেরও হতে পারত!”

বাশারের বিস্মৃতি, নাফীসের অনাগ্রহ

বিশ্বকাপ শুরুর খবরটি কাল রাতে ফোনে শুনে যেন কিছুটা চমকেই উঠলেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। বাসার টিভিতে সবসময় ক্রিকেটের চ্যানেল চললেও, এবার বাংলাদেশ নেই বলেই হয়তো অবচেতন মন বিশ্বকাপের খবর রাখতে চায়নি। ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার পর রাস্তায় রঙ মেখে আনন্দ করা সেই তরুণ হাবিবুল আজ মুষড়ে পড়েছেন।

তাঁর ভাষায়, “টানা সব বিশ্বকাপে খেলার পর এবার না থাকাটা আমার জন্য হৃদয়বিদারক।”

একই সুর শোনা গেল বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীসের কণ্ঠেও। বর্তমানে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকা নাফীস স্পষ্ট জানালেন, দর্শক হিসেবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখার কোনো আগ্রহই তিনি পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ যেখানে নেই, সেখানে এই বিশ্ব আসর নাফীসের কাছে অন্য যেকোনো সাধারণ খেলার টুর্নামেন্টের মতোই ম্লান।

কেন এই নির্বাসন?

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তীতে নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তই কাল হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। বিসিবি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও আইসিসি তাতে সায় দেয়নি। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের জায়গায় আজ বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে স্কটল্যান্ডকে।

ক্রিকেট পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে আবেগের জায়গাটি। ১৭টি বিশ্বকাপের ধারাবাহিকতা ছিঁড়ে যাওয়া কেবল একটি টুর্নামেন্ট মিস করা নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় ঐতিহ্যে এক বড় ক্ষত। আকরাম-হাবিবুলদের এই হাহাকার আসলে কোটি ক্রিকেট ভক্তের মনেরই প্রতিফলন।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়তো হবে চার-ছক্কার রঙিন উৎসব, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কাছে তা কেবলই এক ‘অস্বস্তিকর’ স্মৃতি হয়ে থাকবে।