Ashes test series in australia

অ্যাশেজ আগেই হাতছাড়া হয়েছে, তবু মেলবোর্ন টেস্টে নতুন করে গল্প লেখার সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। শুরুটাও হয়েছিল স্বপ্নের মতো। অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৫২ রানে অলআউট করে স্বাগতিকদের চাপে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছিল তারা। কিন্তু দিন গড়ানোর আগেই চিত্রটা পাল্টে যায়। ব্যাট হাতে নেমে ইংল্যান্ড নিজেই পড়ে যায় গভীর সংকটে।

শুক্রবার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চতুর্থ টেস্টের টস জিতে বেন স্টোকস অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠান। শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল ইংলিশ পেস আক্রমণ। সুইং ও বাউন্সে অজিদের টপ অর্ডার নড়বড়ে হয়ে পড়ে দ্রুতই।

দলীয় ২৭ রানে ট্রাভিস হেড (১২) ফিরতেই ধস নামে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই জ্যাক ওয়েদারল্ড (১০) ও মার্নাস লাবুশেন (৬) সাজঘরে ফেরেন। প্যাট কামিন্সের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্ব পাওয়া স্টিভ স্মিথও টিকতে পারেননি। ৯ রান করে জশ টাংয়ের দারুণ সুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হন তিনি।

মাঝের দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন উসমান খাজা। ২৯ রান করার পথে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে আট হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তবে মধ্যাহ্ন বিরতির পর তিনিও দ্রুত বিদায় নেন। সিরিজে নিয়মিত রান করা অ্যালেক্স ক্যারিও এদিন থামেন ২০ রানে।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সপ্তম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মাইকেল নেসারের জুটি। দুজনে মিলে যোগ করেন ৪৫ রান। গ্রিন ১৭ রানে রানআউট না হলে স্কোরটা আরও বাড়তে পারত। নেসারের ব্যাট থেকেই আসে দলের সর্বোচ্চ ৩৫ রান। শেষ পর্যন্ত ৪৫.২ ওভারে ১৫২ রানেই থামে অস্ট্রেলিয়া।

ইংল্যান্ডের হয়ে দিনের নায়ক জশ টাং। ৫ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফাইফার পান তিনি। ১৯৯৮ সালের পর মেলবোর্ন টেস্টে কোনো ইংলিশ বোলারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। গাস অ্যাটকিনসন নেন ২ উইকেট, ব্রাইডন কার্স ও স্টোকস পান একটি করে।

এত কিছুর পরও স্বস্তি ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে তারা পড়ে যায় ভয়াবহ চাপে। মাত্র ১৬ রানের মধ্যেই চার উইকেট হারায় সফরকারীরা। জ্যাক ক্রাউলি, বেন ডাকেট, জ্যাকব বেথেল ও জো রুট—কারও ব্যাটেই ভরসা পাওয়া যায়নি।

পঞ্চম উইকেটে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দেন হ্যারি ব্রুক। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ৪১ রান করে ইনিংস টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে সঙ্গীর অভাবে সেটিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ইংল্যান্ডের পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে ৬৬ রানে।

অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ে মাইকেল স্টার্ক ও মাইকেল নেসার নেন দুটি করে উইকেট। স্কট বোল্যান্ড যোগ করেন আরেকটি। দিন শেষে দুই দলের অবস্থানই অস্বস্তিকর। অস্ট্রেলিয়া কম রানে অলআউট হলেও ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ধস ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার ফিরিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকদের দিকেই।