হাতে সময় একদমই নেই। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের দিল্লিতে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ। চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে কাটছে না ঘোর অনিশ্চয়তা। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ বা জিও (GO) না আসায় থমকে আছে শুটিং দলের দিল্লি সফর।
বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন এই সফরের অনুমতির জন্য আবেদন করলেও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে এখনো মেলেনি চূড়ান্ত সবুজ সংকেত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও নথিপত্র এখনো আমলাতান্ত্রিক টেবিলেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
গত ১৯ জানুয়ারি এনএসসি থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এই সফরের অনুমতির অনুরোধ করা হয়। এনএসসির নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান চিঠিতে উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ দলের একজন অ্যাথলেট রবিউল ইসলাম আর কোচ শারমিন আক্তারের নয়াদিল্লি সফরের জন্য সরকারি অনুমতির জন্য ফেডারেশন অনুরোধ করেছে।”
বিষয়টি নিয়ে এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান জানিয়েছেন, চিঠিটি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন সরকারের হাতে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম ফকির জানিয়েছেন, “দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানতে পারিনি। দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হতে পারে।”
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র মারফত জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সাথে আলোচনার পরই নির্ধারিত হবে এই সফরের ভাগ্য।
ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা শঙ্কা
শুটিং দলের এই জিও প্রাপ্তিতে বিলম্বের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ। সম্প্রতি নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
ক্রিকেটের সেই বিশেষ পরিস্থিতির প্রভাব এখন শুটিং দলের ওপরও পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই স্পর্শকাতর সময়ে দিল্লি সফরের অনুমতি দেওয়ার আগে সরকার সব দিক খতিয়ে দেখতে চাইছে।
অগোছালো ফেডারেশন ও মাত্র একজন শুটার
নজিরবিহীনভাবে এবারের চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য মাত্র একজন শুটারকে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি হলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ শুটার রবিউল ইসলাম। আগামী ৩১ জানুয়ারি তার ঢাকা ছাড়ার কথা থাকলেও জিও না পাওয়ায় তিনি এখনো অন্ধকারেই আছেন।
নৌবাহিনীর অ্যাথলেট হওয়ায় রবিউলের কাছে বিশেষ পাসপোর্ট আছে, যার ফলে তার আলাদা করে ভারতীয় ভিসার প্রয়োজন নেই। তবে সরকারি অনুমতি ছাড়া তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না।
এদিকে একটি বড় টুর্নামেন্টে কেন মাত্র একজন শুটার পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌসের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একইভাবে কথা বলা সম্ভব হয়নি সফরকারী কোচ ও ২০০৪ সাফ গেমসের স্বর্ণজয়ী শারমিন আক্তারের সাথেও।
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কেলেঙ্কারি
বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ অবস্থা এখন বেশ টালমাটাল। সম্প্রতি ফেডারেশনের তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক জি এম হায়দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন শীর্ষ নারী শুটার কামরুন নাহার কলি। এই ঘটনার পর ফেডারেশন উল্টো কলিকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে, যা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
এছাড়া আরেক শীর্ষ শুটার সায়রা আরেফিনও ক্যাম্পে যোগ দেননি। সব মিলিয়ে ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের পর প্রথম কোনো বড় আসরে অংশ নেওয়ার আগেই অগোছালো ও দুর্বল হয়ে পড়েছে দেশের শুটিং দল।
দিল্লির এই চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের পতাকা শেষ পর্যন্ত উড়বে কি না, তা জানতে এখন উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

