২০০৭ সালের কেপটাউনের সেই স্মৃতি কি আবারও ফিরে আসছে? সেবার জিম্বাবুয়ের কাছে হারলেও অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিল। কিন্তু ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কলম্বোর আজকের ২৩ রানের হার রিকি পন্টিংয়ের উত্তরসূরিদের খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। চোটের মিছিলে বিধ্বস্ত এক অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের কালো মেঘ।
‘বি’ গ্রুপে এখন তিন নম্বরে অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার পথে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। সেখানে ২ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ মাত্র ২ পয়েন্ট। সুপার এইটে উঠতে হলে হাতে থাকা ওমান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দুটি জিততেই হবে অজিদের।
তবে ৬ পয়েন্ট পেলেও কাজ শেষ হবে না; যদি শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েও তাদের বাকি ম্যাচগুলো জেতে, তবে লড়াই গড়াবে নেট রান রেটে। ১৬ ফেব্রুয়ারি লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচটি এখন অজিদের জন্য অলিখিত ‘নক-আউট’।
চোটের অভিশাপ ও ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’
অস্ট্রেলিয়া দলটা এখন কার্যত একটা হাসপাতাল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ছিটকে গেছেন প্যাট কামিন্স ও জস হ্যাজলউড। অধিনায়ক মিচেল মার্শও চোটের কারণে মাঠের বাইরে। কাল জিম্বাবুয়ে ম্যাচে ট্রাভিস হেড দলের হাল ধরলেও নতুন বিপদ হয়ে এসেছে মার্কাস স্টয়নিসের চোট। বোলিংয়ের সময় আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি, পরে ব্যাটিংয়ে নেমেও মাত্র ৬ রানে ফেরেন।
ধারাভাষ্য কক্ষে সাবেক অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের কণ্ঠে ছিল উদ্বেগ, “অস্ট্রেলিয়া আর কোনো চোট সইতে পারবে না।”
অজিদের ব্যাটিং লাইনআপের বড় ভরসা স্টয়নিস। ২০২১ বিশ্বকাপ জয়ী আসর থেকে শুরু করে ২০২২ ও ২০২৪ আসরেও তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ঈর্ষণীয়। এবারের প্রথম ম্যাচেও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। স্টয়নিস যদি শ্রীলঙ্কা ও ওমানের বিপক্ষে খেলতে না পারেন, তবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য লক্ষ্য পূরণ প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ম্যাট রেন শ জানিয়েছেন, মেডিকেল স্টাফদের পরীক্ষার পরেই বোঝা যাবে এই অলরাউন্ডারের ভাগ্যে কী আছে।
হ্যাটট্রিক ব্যর্থতার পথে অজিরা?
২০২১ সালে শিরোপা জেতার পর গত দুই আসরে সেমিফাইনালে পা রাখতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ; বিদায় নিতে হতে পারে প্রথম রাউন্ড থেকেই। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার এমন ছন্নছাড়া রূপ ক্রিকেট বিশ্বকে অবাক করেছে।
১৬ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই সাবেক চ্যাম্পিয়নদের সামনে।

