Bangladesh Football Federation

বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে বয়সভিত্তিক দলগুলোকে ঘিরে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ২০২৬ সালে চারটি আন্তর্জাতিক বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করেছে বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি।

রোববার অনুষ্ঠিত কমিটির ষষ্ঠ সভা শেষে এসব তথ্য জানিয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। বৈঠকে বয়সভিত্তিক দলগুলোর পারফরম্যান্স উন্নয়ন, খেলোয়াড় তৈরির দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো এবং জাতীয় দলের জন্য টেকসই পাইপলাইন গঠনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

জাহেদী জানান, আগামী বছর বাংলাদেশ চারটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নেবে। মার্চের শেষ দিকে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত হবে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ। এরপর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব। পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৭ দল অংশ নেবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও নভেম্বরে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে। এসব প্রতিযোগিতিকে সামনে রেখেই এখন থেকেই প্রস্তুতির রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের ভাষ্য, শুধু স্বল্পমেয়াদি ফল নয়, ভবিষ্যতের জাতীয় দলের ভিত্তি গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। সে জন্য অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ধারাবাহিক খেলোয়াড় উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গড়ে তোলার লক্ষ্য বাফুফের।

সভায় সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা তিন শতাধিক ফুটবল একাডেমিকে নিয়ে ‘একাডেমি কাপ’ আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এই টুর্নামেন্টে ছেলে ও মেয়েরা উভয়ই অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। তৃণমূল ফুটবলকে আরও সক্রিয় করতে প্রতি মাসে অন্তত একটি করে ইভেন্ট আয়োজনের প্রস্তাবও এসেছে বৈঠকে।

স্কুল ফুটবল পুনর্জাগরণেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাফুফে। জাহেদী জানান, ২০২৬ সালে স্কুলভিত্তিক ফুটবল কার্যক্রমকে ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে যুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আসন্ন এক্সিকিউটিভ কমিটির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্কুলগুলোকে ফুটবল উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতার আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে বয়সভিত্তিক ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাফুফের এই পরিকল্পনাকে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।