সংবাদ সম্মেলনে সরকারের নতুন ক্রীড়া নীতি ঘোষণা করছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ মার্চ। প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের সরকারি বেতন কাঠামোর আদলে ‘ক্রীড়া ভাতা’ প্রদান করা হবে। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকাল ১০টায় এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পাওয়া অ্যাথলেটদের বিশেষ ‘সম্মাননা ও ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ

শনিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ২০টি ডিসিপ্লিনের ১২৯ জন খেলোয়াড়কে এই মাসিক ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদকজয়ীদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তালিকায় আছেন যারা

প্রথম দফার তালিকায় আর্চারি, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, কারাতেসহ ২০টি খেলার অ্যাথলেটরা রয়েছেন। বিশেষ করে সাফজয়ী নারী ফুটসাল দল, নারী ভলিবল ও কাবাডি দলের সদস্যরা এই ভাতা পাবেন। তবে ক্রিকেটারদের আয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় আপাতত তাদের এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। হকি দলকেও খুব দ্রুত এই কাঠামোর আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

‘ক্রীড়া কার্ড’ ও অন্যান্য সুবিধা

শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য চালু করা হচ্ছে ‘ক্রীড়া কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে খেলোয়াড়রা হাসপাতাল, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ নাগরিক সুবিধা পাবেন। ভাতার টাকার অঙ্ক এখনই প্রকাশ না করলেও প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, “এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করবেন। তবে অঙ্কটি খেলোয়াড়দের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক হবে।” প্রতি চার মাস অন্তর পারফরম্যান্স পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই ভাতা সচল থাকবে।

তৃণমূল ক্রীড়া ও মাঠ উদ্ধারে মহাপরিকল্পনা

সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন:

স্পোর্টস ভিলেজ: দেশের ৬৪টি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণ করা হবে।

মাঠ উদ্ধার: ৩০ মার্চের পর ঢাকার বেদখল হওয়া মাঠ উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: এপ্রিল থেকে জেলা ও জুন থেকে উপজেলা পর্যায়ে ১২-১৪ বছর বয়সীদের প্রতিভা অন্বেষণ শুরু হবে।

বাধ্যতামূলক খেলাধুলা: আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে সাতটি ক্রীড়া ইভেন্ট প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।