মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে স্পোর্টস মাস্ক পরে ফিটনেস ট্রেনিং করছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।বাংলাদেশ দলের ট্রেনিংয়ে বিশেষ মাস্কের ব্যবহার।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে কদিন ধরেই এক অন্যরকম দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। নাজমুল হোসেন শান্ত থেকে শুরু করে নুরুল হাসান সোহান—সবাইকে দেখা যাচ্ছে মুখমণ্ডলে এক বিশেষ ধরনের মাস্ক পরে কসরত করতে। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এটি পরিচিত হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই ‘স্পোর্টস মাস্ক’ বা ‘হাই-অল্টিটিউড মাস্ক’ একদমই নতুন। নিউজিল্যান্ড সিরিজ ও ঠাসা সূচিকে সামনে রেখে ফিটনেস ক্যাম্পে এই মাস্ক কেন ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

স্পোর্টস মাস্ক কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

বিসিবির স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ ইফতেখার রহমান জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি হাই-অল্টিটিউড (High-Altitude) মাস্ক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে পাহাড়ে উঠলে যেমন অক্সিজেনের অভাব ঘটে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, এই মাস্কটি কৃত্রিমভাবে সেই পরিবেশ তৈরি করে।

কাজের প্রক্রিয়া:

এই মাস্ক পরে ক্রিকেটারদের স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট করে শ্বাস নিতে হয়।

এতে হার্টের লোড নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।

এটি ব্যবহারের ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন দ্রুত হয় এবং হার্টরেট অল্প সময়েই অনেক বেড়ে যায়।

ইনজুরি আক্রান্তদের জন্য ‘ম্যাজিক’ টুল

ইফতেখার রহমানের মতে, যারা চোটের কারণে দীর্ঘক্ষণ দৌড়াতে (Running) পারছেন না, তাদের জন্য এটি আশীর্বাদ। তিনি ব্যাখ্যা করেন এভাবে:

“যদি কোনো ক্রিকেটার হাঁটু বা হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে আধঘণ্টা রানিং করতে না পারেন, তবে তাকে এই মাস্ক পরিয়ে কেবল আধঘণ্টা হাঁটালেই রানিংয়ের সমান উপকার পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ইনজুরি নিয়েও কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে।”

ফ্যাট কমানোর বৈজ্ঞানিক কৌশল

ফিটনেস ট্রেইনিংয়ের একটি বড় লক্ষ্য থাকে শরীরের বাড়তি মেদ বা ফ্যাট কমানো। ইফতেখার জানান, হার্টরেট যখন ৮৫ শতাংশের ওপরে থাকে, তখনই কেবল ফ্যাট পুড়তে শুরু করে।

পার্থক্য: সাধারণ রানিংয়ে হার্টরেট ৮৫ শতাংশে নিতে হয়তো ৫টি রাউন্ড দৌড়াতে হয়।

সুবিধা: স্পোর্টস মাস্ক পরে মাত্র ১টি রাউন্ড দিলেই হার্টরেট সেই পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ফলে অল্প সময়েই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে।

তানভির থেকে শান্ত-সোহান: সবার আগ্রহের কেন্দ্রে

প্রাথমিকভাবে বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলামের জন্য এই মাস্ক আনা হলেও এখন শান্ত এবং সোহানরা এটি ব্যবহার করে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। এমনকি দলের অন্য ক্রিকেটাররাও এখন এই বিশেষ কন্ডিশনিং মাস্ক ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

পেসারদের জন্য ‘টু-ফোর-সেভেন’ মেথড

শুধু মাস্ক নয়, পেসারদের চোটমুক্ত রাখতে বিসিবি এবার একটি কঠোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কোচ ইফতেখার জানান, তারা এখন ‘টু ফোর সেভেন’ (2-4-7) মেথড অনুসরণ করছেন। এর মানে হলো, সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে কোনো পেসারই দুই দিনের বেশি বোলিং করতে পারবেন না। টানা দুই-তিনটি সিরিজ খেললে পরের সিরিজে তাকে বিশ্রাম দিয়ে ‘ডি-লোডিং’ পিরিয়ডে রাখা হবে, যাতে ইনজুরির ঝুঁকি শূন্যে নেমে আসে।

পরবর্তী ধাপ: স্কিল ট্রেনিং

ফিটনেস ক্যাম্প শেষ হলেই শুরু হবে স্কিল ট্রেনিং পর্ব। এরপর ১৩ এপ্রিল নিউজিল্যান্ড দল বাংলাদেশে আসবে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে। সেই সিরিজের আগেই ক্রিকেটারদের ফিটনেসকে চূড়ায় নিয়ে যাওয়াই এই বিশেষ মাস্ক ট্রেইনিংয়ের মূল লক্ষ্য।