Bangladesh cricket team celebrating after defeating Pakistan.পাকিস্তানকে হারানোর পর বাংলাদেশ দলের উল্লাস।

সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ। আজ আইসিসির প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ লাফিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের এটাই সর্বোচ্চ এবং সেরা র‍্যাঙ্কিং। এর আগে ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ অষ্টম স্থানে উঠেছিল লাল-সবুজরা।

আইসিসির নতুন এই তালিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে নবম স্থান থেকে সাতে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে দুই ধাপ অবনতি হয়ে ছয় থেকে আটে নেমে গেছে শান মাসুদের পাকিস্তান এবং এক ধাপ পিছিয়ে নবম স্থানে চলে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

র‌্যাঙ্কিংয়ের অবস্থা

পাকিস্তানকে হারানোর পর র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এখন ৭৮। অবস্থান সাতে।

বিপরীতে পাকিস্তান ধাক্কা খেয়েছে। দুই ধাপ অবনতি ঘটে তারা এখন আট নম্বরে। শান মাসুদদের রেটিং পয়েন্ট ৭৫।

অস্ট্রেলিয়া ১৩১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। দুইয়ে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার রেটিং ১১৯। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা ভারত ও ইংল্যান্ডের রেটিং পয়েন্ট ১০৪ ও ১০২।

এর পরের স্থানে আছে নিউজিল্যান্ড। কিউইদের রেটিং পয়েন্ট ১০১। পাকিস্তানের অবনতিতে এক ধাপ এগিয়ে ছয়ে ওঠে এসেছে শ্রীলঙ্কা। তাদের রেটিং পয়েন্ট ৮৬।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক ধাপ পিছিয়ে নয়ে, রেটিং পয়েন্ট ৬৮। জিম্বাবুয়ের রেটিং পয়েন্ট ১০।

শেষ দিনের রোমাঞ্চ ও ঐতিহাসিক ধবলধোলাই

ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ উইকেট, আর পাকিস্তানের দরকার ছিল ১২১ রান।

আজ সকালের সেশনে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেছিলেন। পানি পানের বিরতির পর দ্বিতীয় বলেই এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে (২৮) স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে ৫৪ রানের পার্টনারশিপ ভাঙার পর আর কোনো রান যোগ করার আগেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।

মাত্র ১৩ বলের ব্যবধানে শূন্য রানে শেষ ৩টি উইকেট পতন ঘটে সফরকারীদের।

বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম নিজের প্রথম বলেই ব্যক্তিগত ৯৪ রানে থাকা রিজওয়ানকে বিদায় করেন। এরপর শেষ উইকেটটি তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস ৩৫৮ রানে গুটিয়ে দেন তাইজুল। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২০ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন এই বাঁহাতি স্পিনার, যা ম্যাচে তাঁর মোট প্রাপ্তি ৯ উইকেট।

টানা দুই সিরিজে পাকিস্তান হোয়াইটওয়াশ

এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানকে টানা দুটি টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ বা ধবলধোলাই করার অনন্য গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ।

এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা। তবে দেশের মাটিতে এবারের সাফল্যটি একটু আলাদা। সেবার দুটি টেস্টেই বাংলাদেশ টস জিতেছিল, আর এবার দুই ম্যাচেই টস হেরে সবুজ উইকেটে আগে ব্যাট করার কঠিন চ্যালেঞ্জ জিতেই ধরা দিয়েছে এই ট্রফি। ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন লিটন কুমার দাস এবং পুরো সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮/১০

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২/১০

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩৯০/১০

পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৩৫৮/১০ (লক্ষ্য ৪৩৭)

ফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী এবং সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়ী।