বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টিম

আফ্রিকার মাটিতেই লেখা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছিল লাল-সবুজ। ছয় বছর পর আবারও আফ্রিকা, আবারও যুব বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। সেই সুখস্মৃতি বুকে নিয়েই নতুন স্বপ্নের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

রোববার রাতেই ঢাকা ছেড়েছে যুব বিশ্বকাপগামী বাংলাদেশ দল। গন্তব্য জিম্বাবুয়ে। তার আগে শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হয়েছে আনুষ্ঠানিক ফটোসেশন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সমন্বয়ক হাবিবুল বাশার।

দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়ে যাবেন কি না—এমন প্রশ্নে বাশার জানালেন, সেমিফাইনালে উঠলে তবেই যাবেন। তবে জিম্বাবুয়ের কন্ডিশন তার অচেনা নয়। হাসতে হাসতেই বললেন, ‘আসলেই কনসালটেন্ট হিসেবে গেলে ভালো হতো। হারারে আর বুলাওয়েতে অনেক খেলেছি।’

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও ম্যাচ ভেন্যুও নির্ধারিত। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ হবে ১০ ও ১২ জানুয়ারি, মাশভিঙ্গা স্পোর্টস ক্লাব মাঠে। গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচটি টাকাশিঙ্গা স্পোর্টস ক্লাব মাঠে। বাকি দুই ম্যাচ বুলাওয়ের ঐতিহ্যবাহী কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে। সুপার সিক্সে উঠলে খেলতে হবে নামিবিয়ায়। তবে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল আবার ফিরবে জিম্বাবুয়েতে।

১৭ জানুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা। কারণ ভারতের দলে আছেন ১৫ বছর বয়সী ব্যাটিং বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএলে প্রথম বলেই ছক্কা, ৩৫ বলে সেঞ্চুরি, এশিয়া কাপ ও ঘরোয়া ক্রিকেটে দেড়শ-দুইশ—একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন তিনি।

বৈভবকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা রেখেছে বাংলাদেশ। স্পিন বোলিং কোচ আরশাদ খান জানালেন, ‘ভারত ম্যাচের জন্য আমাদের আলাদা পরিকল্পনা আছে। অফস্পিন, লেগস্পিন, বাঁহাতি স্পিন—সব অস্ত্রই আছে। সঙ্গে দুজন মানসম্পন্ন পেসার ইমন ও ফাহাদ। আশা করি সবাই দায়িত্ব নেবে।’

জিম্বাবুয়ের উইকেট নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন পাকিস্তানের সাবেক এই স্পিনার। তার ভাষায়, ‘হারারেতে উইকেট স্কিডি হয়। উইকেট টু উইকেট বল করাটা খুব জরুরি। অন্য মাঠে কিছুটা টার্নও থাকে। আমাদের বোলিং কম্বিনেশন ভালো।’

এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ নাভেদ নাওয়াজ। এটি তার তৃতীয় যুব বিশ্বকাপ। ২০২০ সালে তার কোচিংয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২২ সালে ছিলেন না, পরে আবার ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দায়িত্ব নেন।

আগের চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে বর্তমান দলের তুলনা টানতে নারাজ নাভেদ। বললেন, ‘দল একেবারেই আলাদা। কন্ডিশন আলাদা। গত ছয় বছরে ক্রিকেট অনেক বদলেছে। নিয়ম বদলেছে, খেলার ধরন বদলেছে। তবে প্রস্তুতি নিয়ে আমি খুব সন্তুষ্ট।’

দলের শক্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ব্যক্তির চেয়ে দলকেই বড় করে দেখলেন। ‘আমাদের দলে রোমাঞ্চকর ব্যাটসম্যান, ভালো বোলার আছে। কিন্তু টুর্নামেন্ট জিততে হলে সবার অবদান লাগবে। কখনো সেটা রান, কখনো ক্যাচ, কখনো রানআউট—সবকিছুর যোগফলেই শিরোপা আসে।’

আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশ আবারও স্বপ্ন দেখছে। ইতিহাস বলে—এই মাটি লাল-সবুজের জন্য অচেনা নয়।