২০২৫ সালের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে সরকার কমিটি গঠন করতেই পাল্টা কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ‘বাহ্যিক হস্তক্ষেপ’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকারান্তরে আইসিসি নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখাচ্ছে বর্তমান বোর্ড প্রশাসন। বিসিবির এমন অবস্থানে প্রশ্ন উঠছে—স্বচ্ছতা নিশ্চিতের চেয়ে কি তবে আইসিসির নিয়মের আড়ালে নিজেদের রক্ষা করতেই বেশি সচেষ্ট বর্তমান কর্তারা?
তদন্ত কমিটি ও বিসিবির ‘উদ্বেগ’
সদ্য গঠিত এই তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে বিসিবি আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বোর্ডের দাবি, তারা একটি নির্বাচিত ও যথাযথ প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী কাজ করছে। এনএসসির এই তদন্ত প্রক্রিয়া বোর্ডের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতাকে নষ্ট করতে পারে। বিসিবি এরই মধ্যে বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির শীর্ষ প্রতিনিধিদের কানে পৌঁছে দিয়েছে। তাদের ধারণা, সরকারি কোনো সংস্থার এই তদন্ত আইসিসির চোখে ‘সরকারি হস্তক্ষেপ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা বোর্ডের সদস্যপদ ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
হস্তক্ষেপ নাকি জবাবদিহি?
আইসিসির নিয়মানুযায়ী, ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ। বিসিবি এই নিয়মকেই এখন ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে যদি সত্যিই অনিয়ম বা জালিয়াতি হয়ে থাকে, তবে তার তদন্ত করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। বিসিবি অবশ্য সরাসরি সংঘাতের আগে এনএসসির সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। তারা জানতে চায়, এই তদন্তের উদ্দেশ্য এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে।
অভিযোগের নেপথ্যে তামিম ও সংগঠকরা
কিছুদিন আগে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও তাঁর সমমনা ক্রিকেট সংগঠকরা বিসিবি নির্বাচনে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ তুলে এনএসসিতে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতেই বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিসিবি নির্বাচনে স্বচ্ছতার দাবি এখন সময়ের তুঙ্গে। তবে আইসিসি ইস্যুকে সামনে এনে বিসিবির এই ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অবস্থান শেষ পর্যন্ত কতটুকু কার্যকর হয়, নাকি তদন্তের মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসে—তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো দেশ।

