বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবির (BCB) বর্তমান পর্ষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটতে শুরু করেছে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি আজ রোববার তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে বিসিবির আগামী দিনের পথচলা। তবে সরকার এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির (ICC) সাথে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কৌশল নিয়েছে।
আইসিসিকে অবগত করাই এখন মূল লক্ষ্য
বিকেলে বিকেএসপি (BKSP) পরিদর্শনকালে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রতিবেদনটি পাওয়ার পরপরই একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। আমাদের যে আইসিসি রয়েছে, তাদের এই তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে অবগত করার পরেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”
মূলত বিসিবির স্বায়ত্তশাসন (Autonomy) এবং আইসিসির নিয়মের যাতে কোনো লঙ্ঘন না হয়, সে কারণেই এই সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে মন্ত্রণালয়।
আসিফ মাহমুদের অনুপস্থিতি ও ফেসবুক বিতর্ক
তদন্ত চলাকালীন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সাক্ষাতের জন্য ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তিনি যে অংশগ্রহণ করেননি, সেটি তদন্ত প্রতিবেদনের ভেতরে রয়েছে এবং আমরা সেটি যাচাই-বাছাই করেছি।”
এদিকে, প্রতিবেদন জমা পড়ার পর আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পরিচালকদের ভয় দেখানোর অভিযোগ এনেছেন।
এ প্রসঙ্গে আমিনুল হক সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, “ফেসবুকে তো সত্য-মিথ্যা সবই দেখি। তিনি যা বলেছেন, তা কতটুকু সত্য আর কতটুকু মিথ্যা—সেটির বিচারের ভার আমি আপনাদের (সাংবাদিকদের) ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।”
আরও পড়ুন: বিসিবি নির্বাচনে ‘অনিয়ম’: তদন্ত প্রতিবেদনে কেউ ‘দায়ী নয়’!
সাত পরিচালকের পদত্যাগ ও বর্তমান সংকট
বিসিবির বর্তমান ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে ইতিমধ্যে সাতজন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। বিশেষ করে শনিবার একদিনেই চারজন পরিচালকের সরে দাঁড়ানো বোর্ডের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। এই গণহারে পদত্যাগ এবং এনএসসির (NSC) তদন্ত প্রতিবেদন—সব মিলিয়ে বিসিবির বর্তমান পর্ষদ এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।
তদন্ত কমিটির প্রধান আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করেছেন যে, তারা কাউকে অভিযুক্ত না করে একটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দিয়েছেন যাতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলো স্বচ্ছ (Transparent Election) হয়।

