বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে বিসিবির নিজস্ব শাখা অফিস চালু হচ্ছে—আর সেই ঐতিহাসিক যাত্রার শুরু সিলেট থেকে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের পাশাপাশি সিলেটবাসীর জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় সুখবর। আর মাত্র দুই দিন পর, আগামী ৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ‘বিসিবি সিলেট’।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
বিসিবি সভাপতি জানান, দেশের ক্রিকেটকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত ও বিস্তৃত করতেই আঞ্চলিক ভিত্তিতে ক্রিকেট কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষায়, “দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পর্যায়ে বিসিবির আঞ্চলিক অফিস চালুর পরিকল্পনা ছিল। আমরা চেষ্টা করছি ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ সব বিভাগে একটি করে বিসিবি অফিস চালু করতে।”
এই আঞ্চলিক কাঠামোর ক্ষেত্রে ‘অ্যাসোসিয়েশন’ শব্দটি ব্যবহার না করার ব্যাখ্যাও দেন বুলবুল।
তিনি বলেন, “অ্যাসোসিয়েশন বললে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় তৈরি হতে পারে। তাই আমরা সরাসরি বিভাগের নাম ব্যবহার করছি—বিসিবি সিলেট, বিসিবি বরিশাল, বিসিবি খুলনা, বিসিবি চট্টগ্রাম।”
প্রথম ধাপে উদ্বোধন হচ্ছে বিসিবি সিলেট। তবে এটি কেবল নামসর্বস্ব অফিস নয়—এমনটাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। প্রতিটি আঞ্চলিক অফিসে থাকবে স্বতন্ত্র ব্যবস্থাপনা কাঠামো। একজন প্রধানের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে পুরো কার্যক্রম। থাকবে আলাদা অর্গানোগ্রাম ও নিজস্ব স্টাফ।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—বিসিবি সিলেটের প্রধান কে হবেন?
এ প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, “আমরা মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আবেদন আহ্বান করবো। যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিকেই এই দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এমন আঞ্চলিক কার্যালয় গড়ে তোলা হবে বলে জানান বিসিবি প্রধান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিশ্বের সব টেস্ট খেলুড়ে দেশেই রাজ্য, প্রদেশ বা বিভাগভিত্তিক ক্রিকেট প্রশাসন রয়েছে। ভারতের মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব কিংবা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনগুলোই তাদের ক্রিকেট পরিচালনা করে।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই জেলা ক্রিকেটের মান নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেটারদের অভিযোগ—উন্নত সুযোগ-সুবিধা ও কাঠামোগত দুর্বলতায় প্রতিভা ঠিকভাবে বিকশিত হচ্ছে না। সেই বাস্তবতা বদলাতেই এই আঞ্চলিক অফিস ব্যবস্থার দিকে হাঁটছে বিসিবি।
ভারতের রাজ্য ক্রিকেটের মতো আধুনিক স্টেডিয়াম, নিয়মিত প্রতিযোগিতা, বয়সভিত্তিক দল গঠন, ইনডোর সুবিধা, জিম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা পাকিস্তানেও প্রাদেশিক ক্রিকেট কাঠামোই মূল ভিত্তি।
তবে কাজটি সহজ নয়—এ কথাও মানছেন বিসিবি সভাপতি। ঢাকার বাইরে দক্ষ ক্রিকেট প্রশাসক, সংগঠক ও ব্যবস্থাপক পাওয়া কঠিন। সেই কারণে সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেটবোদ্ধাদের সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—এই আঞ্চলিক অফিসগুলো কি সত্যিই ক্রিকেট উন্নয়নের কেন্দ্র হয়ে উঠবে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নামসর্বস্ব কাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
তার উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গেই।

