অমিত হাসান ও ইয়াসির আলী রাব্বি ১০৭ রানের জুড়ি গড়েন।অমিত হাসান ও ইয়াসির আলী রাব্বি ১০৭ রানের জুড়ি গড়েন। ছবি: বিসিবি

সিলেটে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম রাউন্ডের চিত্রটি পুরোপুরি ভিন্ন দুই মেরুতে। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে দক্ষিণাঞ্চলকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে আকবর আলীর উত্তরাঞ্চল। অন্যদিকে, মূল স্টেডিয়ামে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের অপেক্ষায় রয়েছে মুশফিক-অমিতদের পূর্বাঞ্চল।

রবিউলের ৫ উইকেট ও উত্তরের দাপট

সিলেট একাডেমি মাঠে তিন দিনের মধ্যেই খেলার ফয়সালা করে ফেলেছে উত্তরাঞ্চল। ১৬১ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৯.৪ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে তারা। ওপেনার সাব্বির হোসেন ৩৫ বলে ৪টি ছক্কায় ৫৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন।

এর আগে উত্তরাঞ্চল তাদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানে অলআউট হয়। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার প্রিতম কুমার ১৫১ রান নিয়ে দিন শুরু করলেও আজ মাত্র ৪ রান যোগ করে ১৫৫ রানে থামেন। ১১৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণাঞ্চল মাত্র ১৭২ রানে গুটিয়ে যায়।

দলের পক্ষে সামিউন বাসীর (৫৩) ও মঈন খান (৪২) প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ২৬ বছর বয়সী পেসার রবিউল হকের তোপে তা যথেষ্ট ছিল না। রবিউল ৫ উইকেট নিয়ে উত্তরাঞ্চলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন এবং ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন।

অমিতের সেঞ্চুরি ও ইনিংস জয়ের হাতছানি

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ৪৬৩ রানের পাহাড় গড়ে ১৫৬ রানের বড় লিড নিয়েছে পূর্বাঞ্চল। জবাবে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮২ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে মধ্যাঞ্চল। ইনিংস পরাজয় এড়াতে হলে তাদের আরও ৭৪ রান করতে হবে, হাতে আছে মাত্র ৩ উইকেট।

পূর্বাঞ্চলের এই দাপটের নেপথ্যে ছিলেন অমিত হাসান ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। ১৬১ রানের জুটিতে মুশফিক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ২১তম সেঞ্চুরির আশা জাগালেও ৮৩ রানে আউট হয়ে আক্ষেপে পুড়েন।

তবে তরুণ অমিত হাসান ভুল করেননি; তিনি ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১৬২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এছাড়া ইয়াসির আলী অপরাজিত ৭৯ রান করেন। মধ্যাঞ্চলের হয়ে স্পিনার রাকিবুল হাসান ১৫২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন।

মধ্যাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংসে ধস নামান পূর্বাঞ্চলের পেস ত্রয়ী। খালেদ আহমেদ ৩টি এবং ইবাদত হোসেন ও তোফায়েল আহমেদ ১টি করে উইকেট নেন। বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদও তুলে নেন ২ উইকেট।