Khaled Mahmud Sujon Cricfoot24

২০২৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরুর আগেই টুর্নামেন্ট পরিচ্ছন্ন রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেই ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন এখন মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডেও স্পষ্ট। চলমান বিপিএলে দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের তৎপরতায় এবার ডাক পড়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের।

বিসিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, গতকাল অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (এসিইউ) খালেদ মাহমুদ সুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল। নোয়াখালীর হয়ে এবারের বিপিএলে টানা ব্যাটিং বিপর্যয় এবং একের পর এক হতাশাজনক পারফরম্যান্সের প্রেক্ষাপটেই এই ডাক।

চলতি বিপিএলে চার ম্যাচ খেলেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। কোনো ম্যাচেই দলের সংগ্রহ ১৫০ রান ছুঁতে পারেনি। সর্বশেষ সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে মাত্র ১৪.২ ওভারে ৬১ রানে গুটিয়ে যায় দলটি। ব্যাটিংয়ের এমন ভঙ্গুর চিত্রই দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের নজরে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুজনকে ডাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর কোচিং স্টাফের এক সদস্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত এমন ব্যাটিং ধস হলে তদন্তে আসা ‘অস্বাভাবিক নয়’।

ম্যাচ শেষে সুজন ঢাকায় ফিরে গেছেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নোয়াখালী দলের সূত্রে আরও জানা গেছে, এর আগেও দলটির একজন বোলারকে ডেকেছিল দুর্নীতিবিরোধী বিভাগ। অর্থাৎ সামান্য সন্দেহের আভাস পেলেই খেলোয়াড়, কোচ কিংবা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে।

এই কঠোর নজরদারিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন দলের বেশির ভাগ সদস্য। নোয়াখালীর এক সদস্য বলেন,
“এটা আমাদের জন্যই ভালো। সবার মনে একধরনের ভয় কাজ করছে, যেন কোনো সন্দেহজনক কাজের সঙ্গে কেউ জড়াতে না পারে।”

এর আগে বিপিএল শুরু হওয়ার আগেই বিসিবির স্বাধীন দুর্নীতি দমন বিভাগের চেয়ারম্যান অ্যালেক্স মার্শালের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন। সেই প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ‘রেড ফ্ল্যাগড’ থাকা ৯ ক্রিকেটারকে নিলাম থেকেই বাদ দেওয়া হয়।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সূত্র জানিয়েছে, এবার মাঠে শুধু এসিইউ নয়, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), আইসিসির একাধিক কর্মকর্তা এবং অ্যালেক্স মার্শালের সরাসরি তত্ত্বাবধানেও কাজ চলছে। সন্দেহভাজনদের শুধু ডাকা নয়, প্রয়োজনে ফোন যাচাই, বেটিং সাইট পর্যবেক্ষণ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর করা হয়েছে।

ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড় ও অফিশিয়ালদের নির্ধারিত এলাকায় বিসিবির পরিচালকদেরও প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু।

তিনি বলেন, “ঠিক, ইভেন আই অ্যাম নট অ্যালাউড ইনসাইড দ্য গ্রাউন্ড অ্যান্ড পিএমও এরিয়া। ওরা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। কঠোর পরিশ্রম করছে। তারা কাজ করছে একেবারে স্বাধীনভাবে।”

সব মিলিয়ে, আগের বিপিএলগুলোর বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কোনো ছাড় না দেওয়ার নীতিতেই এগোচ্ছে বিসিবি। খালেদ মাহমুদ সুজনকে দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটে ডাকার ঘটনাও সেই কঠোর অবস্থানেরই একটি স্পষ্ট বার্তা।